সেনাবাহিনীর অভিযানে গোডাউন থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল উদ্ধারের দাবিতে এআই ভিডিও প্রচার

চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের মাঝে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করে ইরানে। যাতে করে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগে। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে দেখা দেয় জ্বালানি সংকট; বাড়ে দামও। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকটে বন্ধ হতে বসেছে দেশের বিভিন্ন জেলার ফিলিং স্টেশনগুলো। এর প্রেক্ষিতে সম্প্রতি, সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে একাধিক গোডাউন থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল উদ্ধার করেছে দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুটো ভিডিও প্রচারিত হতে দেখা যায়। উভয় ভিডিও-ই Defense Lifestyle BD নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে প্রচার করা হয়েছে।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, সেনাবাহিনীর অভিযানে গোডাউন থেকে বিপুল পরিমাণে জ্বালানি তেল উদ্ধারের দাবিতে প্রচারিত ভিডিও দুটো আসল নয়। প্রকৃতপক্ষে, বর্তমান জ্বালানি সংকটের মুহুর্তে একাধিক জায়গায় অভিযানে জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হলেও আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিও দুটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি করা হয়েছে।
দাবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে দেশের একাধিক স্থানে অভিযান চালিয়ে মজুতকৃত জ্বালানি তেল উদ্ধারের তথ্য পাওয়া গেলেও সেগুলোর কোনোটি সেনাবাহিনী দ্বারা পরিচালিত নয় বলে লক্ষ্য করা যায়। এছাড়াও সেখানকার চিত্রের সাথে আলোচিত ভিডিওগুলোরও মিল পাওয়া যায়নি।
তাই পরবর্তীতে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওগুলোকে সূক্ষ্মভাবে পর্যালোচনা করে দেখে রিউমর স্ক্যানার। পর্যালোচনায় ভিডিওগুলোতে বেশ কিছু এআইজনিত অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যায়। আলোচিত দাবিতে প্রচারিত প্রথম ভিডিওটিতে দেখতে পাওয়া নারী সেনা কর্মকর্তার নামের ব্যাজে লেখাটি অস্পষ্ট ও অসঙ্গতিপূর্ণ। যেটি কোনো নির্দিষ্ট ভাষায় লেখা নয়। সাধারণত এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্টে লেখার ক্ষেত্রে এই ধরনের অস্পষ্টতা লক্ষ্য করা যায়। এছাড়াও ভিডিওটি দুটি ক্লিপ বা ফুটেজ যুক্ত করে তৈরি করা হয়েছে বলেও বোঝা যায়। দুটো ক্লিপেই ওই নারী সেনা কর্মকর্তাকে একই ভঙ্গিতে কথা বলতে দেখা গেলেও দুই সময় তিনি ভিন্ন ভিন্ন মন্তব্য করেন। অনেকটা একই রকমের ঘটনা দেখা যায় দ্বিতীয় ভিডিওটিতেও। সেখানেও দেখতে পাওয়া পুরুষ সেনা কর্মকর্তার ব্যাজে তার নাম স্পষ্ট নয়।

পরবর্তীতে আলোচিত এই ভিডিওগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় নির্মিত কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী প্ল্যাটফর্ম Hive Detect-এ পরীক্ষা করলে দেখা যায়, ভিডিওগুলো এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।

উল্লিখিত ভিডিওগুলো ব্যতীতও একই দাবিতে পেজটিতে দুটি ছবিও প্রচার করা হয়। অনুসন্ধানে দেখা যায় এই ঘটনার ছবি দাবিতে পেজটিতে প্রচারিত এই ছবিগুলোও এআই প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি করা হয়েছে।

সুতরাং, সেনাবাহিনীর অভিযানে একাধিক গোডাউন থেকে বিপুল পরিমাণে জ্বালানি তেল উদ্ধারের দাবিতে প্রচারিত ভিডিও দুটি এআই দিয়ে তৈরি।
তথ্যসূত্র
- Hive Detect
- Rumor Scanner’s Analysis

