‘সন্ত্রাসী পিচ্চি মাসুম’ এর আস্তানায় সেনাবাহিনীর অভিযানের ভিডিও জামায়াত নেতার বাসা দাবিতে প্রচার

সম্প্রতি অনলাইনে একটি ভিডিও প্রচার করে দাবি করা হয়েছে, ‘সেনাবাহিনীর অভিযানে জামাত নেতার বাসা থেকে অস্ত্র-গু’লিসহ মা’দক উদ্ধার, গ্রেফতার ৩’।

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি সেনাবাহিনীর অভিযানে জামায়াত নেতার বাসা থেকে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের দৃশ্যের নয়। প্রকৃতপক্ষে, সম্প্রতি ‘সন্ত্রাসী পিচ্চি মাসুম’ এর আস্তানায় সেনাবাহিনীর অভিযানের দৃশ্যকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।

আলোচিত ভিডিওর বিষয়ে অনুসন্ধানে মূলধারার সংবাদমাধ্যম ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’ এর ইউটিউব চ্যানেলে ‘গোপন আস্তানায় সেনাবাহিনীর হানা, অ’স্ত্র ও মা’দ’কসহ স’ন্ত্রা’সী পিচ্চি মাসুম গ্রেপ্তার’ শিরোনামে গত ৬ ফেব্রুয়ারিতে প্রচারিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওতে প্রদর্শিত দৃশ্যের সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটিতে প্রদর্শিত দৃশ্যের মিল পাওয়া যায়।

এরই সূত্র ধরে অনুসন্ধানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে গত ৬ ফেব্রুয়ারিতে প্রচারিত একটি পোস্ট পাওয়া যায়। পোস্টে বলা হয়, “(৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী যৌথ অভিযান পরিচালনা করে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী  এলাকা হতে সন্ত্রাসী পিচ্চি মাসুম ও তার তিন সহযোগী নাসির, রাজু, নাঈম কে অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য সরঞ্জামাদিসহ গ্রেপ্তার করা হয়। এই অভিযানে ০২ টি পিস্তল, ০১ টি রিভলবার, ০১ টি ডামি পিস্তল, ০৩ রাউন্ড পিস্তল এ্যামুনিশন, ০৩ টি ওয়াকি-টকি, মাদকদ্রব্য, নগদ অর্থ ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।”

এছাড়াও, এ বিষয়ে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করলে মূলধারার সংবাদমাধ্যম ইত্তেফাকবাংলাদেশ প্রতিদিনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন সূত্রেও অভিযানের বিষয়ে সংবাদ পাওয়া যায়। বাংলাদেশ প্রতিদিনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘রাজধানীর উত্তর বাড্ডা এবং যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘পিচ্চি মাসুম’সহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয় ১৪টি বিদেশি অস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ গুলি। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে গতকাল (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালনা করেন সেনাবাহিনীর গুলশান ও আজিমপুর ক্যাম্পের সদস্যরা।’

অনুসন্ধানে কোথাও আলোচিত দাবির উল্লেখ পাওয়া যায়নি।

সুতরাং, সম্প্রতি ‘সন্ত্রাসী পিচ্চি মাসুম’ এর আস্তানায় সেনাবাহিনীর অভিযানের দৃশ্যকে জামায়াত নেতার বাসা থেকে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের ভিডিও দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর।

তথ্যসূত্র

Share: