সম্প্রতি, ‘সেনাবাহিনীর অভিযানে বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যানের দুদুর বাসায় থেকে ৩৩২ কোটি টাকা উদ্ধার করছেন সেনাবাহিনী’ শিরোনামে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।
টিকটকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
এই প্রতিবেদন প্রকাশ অবধি ভিডিওটি ১ লাখ ৪৯ হাজার বার দেখা হয়েছে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুর বাসা থেকে সেনাবাহিনী ৩৩২ কোটি টাকা উদ্ধার করেনি। প্রকৃতপক্ষে, ভিন্ন ভিন্ন ঘটনার পুরোনো ভিডিও যুক্ত করে আলোচিত দাবিটি ছাড়ানো হয়েছে।
ভিডিও যাচাই ১
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে যমুনা টিভির ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ‘বিপুল পরিমাণ ডলার, টাকা ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার নির্বাহী প্রকৌশলীর গাড়ি থেকে’ শিরোনামে প্রচারিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওর সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফুটেজের মিল রয়েছে।

এ বিষয়ে আরো অনুসন্ধান করে কালবেলার ওয়েবসাইটে ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ৮ আগস্ট (২০২৪) বরিশালে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ, ডলার ও কোটি কোটি টাকার সম্পদের নথিপত্রসহ পটুয়াখালীর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদকে একটি গাড়িসহ আটক করে শিক্ষার্থীরা।
ভিডিও যাচাই ২
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে যমুনা টিভির ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৩ সালের ২১ মার্চ ‘বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদকে সব পদ থেকে বহিষ্কার’ শিরোনামে প্রচারিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওর সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফুটেজের মিল রয়েছে তবে অডিও অংশ সম্পাদিত।

এ বিষয়ে আরো অনুসন্ধান করে প্রথম আলোর ওয়েবসাইটে ২০২৩ সালের ২১ মার্চ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সেদিন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদকে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে দলটির সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
আলোচিত দাবির ভিডিওতে এমন আরও ছবি ও ভিডিও যুক্ত করা হয়েছে, যেগুলোর সাথে দাবির কোনো সম্পর্ক নেই।
এছাড়া, শামসুজ্জামান দুদুর বাসা থেকে টাকা উদ্ধার হওয়ার মতো ঘটনা ঘটলে সে বিষয়ে গণমাধ্যমগুলোতে ঢালাওভাবে সংবাদ প্রচার হতো। তবে আলোচিত দাবির বিষয়ে গণমাধ্যম কিংবা বিশ্বস্ত সূত্রে কোনো তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।
সুতরাং, শামসুজ্জামান দুদুর বাসা থেকে সেনাবাহিনী ৩৩২ কোটি টাকা উদ্ধার করেছে বলে যে দাবি প্রচার করা হয়েছে তা মিথ্যা।


