ত্রিশালে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির নাম সাইফুল ইসলাম, তিনি মসজিদের ইমামই ছিলেন

সম্প্রতি, “মিডিয়ার শিরোনাম ছিলো, ধ’র্ষ’নে’র দায়ে ঈমাম গ্রেফতার! কমেন্টে হুজুগে বাংগালি হুজুরদের চৌদ্দ গোষ্ঠী উদ্ধার করার পর জানা গেলো উনি কোনো মসজিদের ঈমাম ছিলেন না। বেচারার পিতৃপ্রদত্ত নামই ছিলো ঈমাম উদ্দিন।’’ শিরোনামে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।
ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ছবির ব্যক্তির নাম ইমাম উদ্দিন নয় এবং তিনি মসজিদের ইমাম নন এই দাবিও সত্য নয়। প্রকৃতপক্ষে, ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার এই ব্যক্তির নাম সাইফুল ইসলাম খোকা। তিনি ত্রিশালের একটি মসজিদের ইমাম।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে সময়ের আলোর ওয়েবসাইটে গত ৩ জুলাই ‘ত্রিশালে ফের মসজিদের ইমাম আটক, শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ’’ শিরোনামে প্রচারিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদনে সংযুক্ত ছবির সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবির মিল রয়েছে।

উক্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সেদিন ময়মনসিংহের ত্রিশালে মসজিদের এক ইমামকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী। তার বিরুদ্ধে ১১ বছর বয়সী কন্যাশিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আনা হয়। শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে উপজেলার মোক্ষপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। এসময় এলাকাবাসী গণপিটুনি দিয়ে জুতার মালা পড়িয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে তাকে আটক করে থানা হেফাজতে নিয়ে যায়। আটক ব্যক্তি সাইফুল ইসলাম খোকা স্থানীয় বালুর বাজার পাঞ্জেগানা মসজিদের ইমাম। তার বাড়ি মোক্ষপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাপখালী গ্রামে।
এ বিষয়ে আরো অনুসন্ধান করে প্রথম আলোর ওয়েবসাইটে গত ৪ জুলাই প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকেও একই তথ্য জানা যায়।
ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহাম্মদের এ বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেছেন, “ওই শিশুকে ডেকে এনে ধর্ষণের চেষ্টা চালান ওই ইমাম। স্থানীয়ক বাসিন্দারা তাঁকে আটকে পুলিশে দেন। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ওই মামলায় ইমামকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।”
সুতরাং, ময়মনসিংহে সাইফুল ইসলাম খোকা নামক এক মসজিদের ইমামকে ধর্ষণ অভিযোগে গ্রেফতারের ঘটনাকে গ্রেফতার ব্যক্তির নাম ইমাম ও সে মসজিদের ইমাম নয় দাবিতে প্রচার করা হয়েছে, যা মিথ্যা।

