দেশত্যাগের সময় বিমানবন্দরে আসিফ নজরুল আটক দাবিতে এআই ছবি প্রচার

সম্প্রতি, দেশত্যাগের সময় বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আটক হয়েছে দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। প্রচারিত ভিডিওটিতে আসিফ নজরুলকে আটককৃত অবস্থার একটি ছবি দেখতে পাওয়া যায়। এছাড়াও একটি প্রতিবেদনও দেখতে পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনটিতে সংবাদপাঠিকাকে বলতে শোনা যায়, ‘দেশ ছাড়ার সময় বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে আটক হলেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। সকালে একটি ফ্লাইটে যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে যান তিনি এবং ইমিগ্রেশন চেকিংয়ের সময় তাকে আটক করা হয়।’

ফেসবুকে প্রচারিত এমন ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

টিকটকে প্রচারিত একই ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, আসিফ নজরুলের ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে আটক হওয়ার দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, এআই বা কৃত্রিম ‍বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি ছবিকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে। এছাড়াও একই দাবিতে প্রচারিত প্রতিবেদনটিও সম্পাদিত।

আলোচিত দাবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে গণমাধ্যম কিংবা অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে দেশত্যাগের মুহূর্তে আসিফ নজরুলের আটক হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে উক্ত দাবিতে প্রচারিত প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে দেখে রিউমর স্ক্যানার। পর্যালোচনায় সংবাদ পাঠিকাকে একই দাবি করতে শোনা গেলেও যখন ভিডিওটিতে প্রতিবেদনটির শিরোনাম ভেসে ওঠে তখন সেখানে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যা মামলা’ শীর্ষক লেখা দেখতে পাওয়া যায়। আলোচিত ভিডিওটি মূল প্রতিবেদনের ভিডিওকে মিরর ইমেজে তৈরি করে প্রস্তুত করায় লেখাটিও সেখানে মিরর অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। এছাড়াও দেখতে পাওয়া যায় প্রতিবেদনটি ‘দুপুরের বাংলাদেশ’ শীর্ষক বুলেটিনের অংশ। পাশাপাশি লক্ষ্য করা যায়, সংবাদপাঠিকার ‍মুখভঙ্গির সাথে শুনতে পাওয়া কথাগুলোর অসামঞ্জস্যতা লক্ষ্য করা যায়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম যমুনা টেলিভিশনের দুপুরের সংবাদ বুলেটিনের নাম ‘দুপুরের বাংলাদেশ’। কিন্তু অনুসন্ধানে উল্লিখিত গণমাধ্যমের ইউটিউব চ্যানেলে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যা মামলা’ শীর্ষক শিরোনামের প্রতিবেদনটি খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে আসিফ নজরুলকে আটকের ঘটনায় প্রকাশিত সংবাদের শিরোনাম ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যা মামলা’ না হয়ে সেখানে তার নাম থাকাটা স্বাভাবিক ছিল। তাই এটি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে যে, যমুনা টেলিভিশনের ভিন্ন প্রতিবেদনের সংবাদপাঠিকার ভয়েস পরিবর্তন করে আলোচিত ভয়েসটি তৈরি করা হয়েছে।

পরবর্তীতে আসিফ নজরুলকে আটককৃত অবস্থায় দেখতে পাওয়া ছবিটি পর্যবেক্ষণ করে দেখে রিউমর স্ক্যানার। ছবিটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আসিফ নজরুলকে ধরে রাখা পুলিশের পোশাকটি ভারতীয় পুলিশের, বাংলাদেশের পুলিশের নয়। এছাড়াও পেছনে দেখতে পাওয়া POLICE লেখার পেছনে দেখতে পাওয়া রঙের প্যাটার্নটিও ভারতে ব্যবহার করা হয়। এ থেকে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে, ছবিটি বাংলাদেশের বিমানবন্দরের নয়। সাধারণত এআই প্রযুক্তির সহায়তায় ছবি তৈরি করা হলে এই ধরনের অসাঞ্জস্যতা লক্ষ্য করা যায়।

ছবিটি এআই দ্বারা তৈরি কিনা সেটি যাচাইয়ে এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী প্ল্যাটফর্ম Hive Detect -এ ছবিটি পরীক্ষা করলে দেখা যায়, এটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ৯২.৯ শতাংশ।

সুতরাং, দেশত্যাগের সময় বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আটক হওয়ার দাবিতে প্রচারিত ছবিটি এআই জেনারেটেড।

তথ্যসূত্র

  • Hive Detect
  • Rumor Scanner’s Analysis
Share: