তুরাগ ইস্যুতে অনলাইন ক্যাম্পেইন: দাবির পক্ষে ভুয়া প্রমাণের ব্যবহার

২৩ জুন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে দেশজুড়ে দলটির নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিলের পর সামাজিক মাধ্যমে দাবি ছড়ায়, ২৬ জুন তুরাগ নদ থেকে ৭ ছাত্রলীগ কর্মীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। অভিযোগ করা হয়, মিছিলে অংশ নেওয়ার কারণে তাদের হত্যা করা হয়েছে। তবে রিউমর স্ক্যানার যাচাই করে দেখেছে, এই দাবির পক্ষে এআই-নির্মিত ছবি, ভিন্ন ঘটনার ভিডিও-ছবি ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। 

‘তুরাগ হত্যাকাণ্ড’ ঘিরে অনলাইন প্রচারণা ও রাজনৈতিক দাবি

২৩ জুন ঘিরে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী এবং দলের অনুগত অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করতে থাকে, গত ২৬ জুন ঢাকার তুরাগ নদ থেকে ৭ জন ছাত্রলীগ কর্মীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের আলোচিত অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নাহিদ রেইনস এবং অমি রহমান পিয়ালসহ আরো অনেকে কয়েকজন নিখোঁজের দাবিও করেন। কেউ কেউ ৩ জন, আবার ৪ জনের মরদেহ উদ্ধারের দাবিও করেন।

তাদের দাবি, নিহত ব্যক্তিরা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ২২ জুন অনুষ্ঠিত একটি ঝটিকা মিছিলে অংশ নেয়। মিছিল করার অপরাধে পুলিশ ও বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের ‍তুলে নিয়ে হত্যা করে তুরাগ নদে ফেলে দেয়। পরবর্তীতে নদে তাদের অর্ধগলিত মরদেহ পাওয়া যায়।

তবে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের ৭ নেতা-কর্মীর লাশ উদ্ধারের দাবিটিকে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা অপপ্রচার বলে জানানো হলেও আলোচিত এই দাবিকে দলের নেতাকর্মী ও অ্যাক্টিভিস্টরা ‘তুরাগ হত্যাকাণ্ড’ ও ‘তুরাগ ট্রাজেডি’ অ্যাখা দিয়ে ব্যাপক আকারে অনলাইন ক্যাম্পেইন চালাতে দেখা যায়। ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে Daily Ajker Kantho নামের একটি ফেসবুক পেজ সুস্পষ্ট তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে শুধু কথিত গোয়েন্দা ও পুলিশ প্রশাসনের সূত্রে দাবি করে, ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা এসএম জাহাঙ্গীর হোসেনের নির্দেশনায় উক্ত হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়। আবার ভারতে আশ্রিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় এক ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, ‘তুরাগ হত্যাকাণ্ড’ সুরাহার জন্য বিএনপি সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে সেনাবাহিনী ও ডিজিএফআইয়ের সাথে যোগাযোগ করে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ভুয়া ছবি ও পুরোনো ভিডিও দিয়ে দাবির পক্ষে ‘প্রমাণ’ উপস্থাপন

তুরাগে হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিক ভিডিও ফুটেজ ও ছবি প্রচারিত হতে দেখে রিউমর স্ক্যানার।

ডাকসুর গত বছরের ভিপি প্রার্থীদের একজন শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি ফেসবুকে এ সংক্রান্ত একটি ছবি প্রকাশ করেন, যেখানে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের হায়েনাদের নৃশংসতা এবং ২০২৬ সালে তুরাগে পাকিস্তানের দোসরদের নৃশংসতার তুলনা করতে গিয়ে লাশ উদ্ধারের দুইটি দৃশ্য যুক্ত করা হয়েছে। রিউমর স্ক্যানার যাচাই করে দেখেছে, এটি একটি এআই দিয়ে বানানো ছবি।

পাশাপাশি তুরাগ নদ থেকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের লাশ উদ্ধারের ভিডিও দাবিতে ফেসবুকে আরেকটি ভিডিও প্রচার হতে দেখা যায়। ভিডিওতে একাধিক মরদেহ মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। আলোচিত এই ভিডিওটি ব্যাপকভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটির বিষয়ে অনুসন্ধানের পর জানা যায়, এটি গত ২৫ মে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে ১৫ জন নিহত হওয়ার ঘটনার দৃশ্য। নিহত ব্যক্তিরা রডবোঝাই ওই ট্রাকে করে ঈদ উপলক্ষে বাড়ি ফিরছিলেন বলেও গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়।

এছাড়াও তুরাগে ছাত্রলীগের কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার ছবি দাবিতে ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলার যুবলীগ নেতা জোবায়ের পারভেজ হত্যার ছবিও প্রচার করতে দেখা যায়। জাতীয় দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার দাবি অনুযায়ী, দোকান নিয়ে বিরোধের জেরে পারভেজকে কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠেছে ছাত্রলীগ কর্মী মামুন ও শাহাদাতের বিরুদ্ধে।

তুরাগ ইস্যুকে বৈধতা প্রদানের জন্যে Daily Ajker Kantho ফেসবুক পেজ থেকে দাবি করা হয়, মানবাধিকার কর্মী ও আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া তুরাগ ইস্যু নিয়ে “আদালতের কাঠগড়ার চেয়ে তুরাগের পাড় যদি অপরাঘের ফয়সালা করার জায়গা হয়ে ওঠে, তবে বুঝতে হবে রাষ্ট্র ভেঙে পড়েছে” শীর্ষক মন্তব্য করেছেন।

তবে জ্যোতির্ময় বড়ুয়া এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে এমন মন্তব্য করার দাবিটি অস্বীকার করেন। বিডিনিউজ২৪ এর এক প্রতিবেদনে তার এ সংক্রান্ত একটি বক্তব্যও পাওয়া যায়, যেখানে তিনি বলছিলেন, “তারা (ট্রলারে থাকা ব্যক্তিরা) ঘাটে ওঠার আগেই যদি পুলিশ ধাওয়া দেয়, তাহলে তাদের পরিচয়ের বিষয়েতো পুলিশ নিশ্চিত হওয়ার কথা না। আইনশৃঙ্খলার ব্যত্যয় ঘটলে পুলিশের ব্যবস্থা নেওয়ার আইন আছে, কিন্তু কোন তথ্যের ভিত্তিতে তারা ব্যবস্থা নিল বিষয়টি তাদেরকেই ‘জাস্টিফাই করতে হবে’।”

একই প্রেক্ষাপটে তুরাগ নদে সুমন নামের একজনের মরদেহ ভাসছে দাবিতে একটি ভিডিও ফুটেজও প্রচার হতে দেখা যায়। তবে যাচাইয়ে দেখা যায়, আলোচিত এই ভিডিওটি তুরাগ নদর নয়। বরং, সিলেটের গোপালগঞ্জের সুরমা নদতে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ ভেসে যাওয়ার দৃশ্য এটি। এ ঘটনায় সিলেটের স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ২৬ জুন সন্ধ্যায় পৌর শহরের কাঁচাবাজার খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৪৫ বছর বলে জানিয়েছে পুলিশ।  

এছাড়া, ফেসবুকে প্রচার হওয়া আরেকটি ভিডিওতে দাবি করা হয়, তুরাগ নদীতে ছাত্রলীগ কর্মীদের হত্যার নিউজ করার কারণে সাংবাদিকদের আক্রমণ করা হয়েছে। তবে যাচাইয়ে দেখা যায়, এটি মৌলভীবাজারের ভিন্ন ঘটনার ফুটেজ। কালবেলার অনলাইন প্রধান অমৃত মলঙ্গীর ফেসবুক প্রোফাইলে মূল ভিডিওটি পাওয়া যায়। তিনি জানান, ২৬ জুন গণমাধ্যমটির মোজো রিপোর্টারকে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় নির্মমভাবে মেরেছে। কালবেলার প্রতিবেদনে বলদ হয়, সেদিন এনসিপি নেতা নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমের কর্মসূচি কাভার করতে ঢাকা থেকে শরীফপুরে যান রুমেল আহমেদ। এ সময় জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। কয়েকজন সাংবাদিক রুমেলকে তাদের জন্য সুবিধাজনক জায়গা ছেড়ে দিতে বললে তিনি তাতে অস্বীকৃতি জানান। তবে তিনি আগে থেকেই ওই স্থানে অবস্থান করছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী ঘটনাস্থলেই তাকে হেনস্তা করেন। পরে তাকে মারধর করা হয়।

তুরাগ নদ থেকে যাদের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে, অনুসন্ধানে যা জানা গেল

প্রথম আলোর এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ২৬ জুন তুরাগ নদ থেকে মো. সুমন নামের ১৭ বছর বয়সের এক কিশোরের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই মূলত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ফেসবুক পেজ বা প্রোফাইল থেকে প্রচার করা হয়, তুরাগ থানা এলাকায় আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মিছিলে বিএনপি নেতা-কর্মী ও পুলিশের হামলার পর থেকে ৭ জন নেতা-কর্মী নিখোঁজ এবং ৩-৪ জনের মরদেহ তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রথম আলোর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম নিহতের পরিবারের বরাতে বলেন, গত ২২ জুন সুমন পিকনিকের কথা বলে বাসা থেকে বের হয়। পরে তুরাগ নদে পড়ে যায়। সে সাঁতার জানত না। পরিবারের সদস্যরা নদে খোঁজাখুঁজি করলেও পায়নি। পরবর্তীতে স্থানীয়দের দেওয়া সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৫ জুন নদের পাশে তার মরদেহ খুঁজে পাওয়া যায়।

তবে বিডিনিউজ২৪ এর প্রতিবেদনে বলা হয়, সুমনের পিকনিকে যাওয়ার যে কথা পুলিশ বলছে, তারা এমন কিছু পুলিশকে বলেছেন কি না জানতে চাইলে তার খালু জুয়েল বাবু বলেন, “না, আমরা পুলিশরে এমন কিছু বলি নাই। তবে তার ভাই সালাউদ্দিন ভয় পাইয়া প্রথম কয়েকজনরে বলছে পিকনিকের কথা। ভাবছে মিছিলের কথা কইলে যদি আবার কোনো ঝামেলা হয়।”

সুমনের ফেসবুক প্রোফাইল পর্যালোচনা করে তাকে নিয়মিত আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রচারণা চালাতে দেখা যায়। এছাড়াও গত ১৯ জুন তার প্রোফাইলে একটি ভিডিও প্রচার করতে দেখা যায়। যেখানে তাকে সাদা রঙের একটি শার্ট পরিহিত অবস্থায় একাধিক যুবকের সাথে নদের ধারে দেখতে পাওয়া যায়।

গত ২২ জুন ফেসবুকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর ৭৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের “শপথ” গ্রহণের একটি ভিডিওতেও সুমনকে একই শার্ট পরা অবস্থায় শপথ নিতে দেখা যায়। ভিডিওটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আলোচিত এই শপথ নেওয়ার ভিডিওটিও একটি ট্রলারে ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়াও অনুসন্ধানে ২২ জুন আশুলিয়ার ট্রলার ঘাটের নিকটবর্তী বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে সাতজনকে গ্রেফতারের তথ্য ও ছবি পাওয়া যায়। ছবিটি পর্যালোচনায় আটক ৭ জনের কয়েকজনকে আলোচিত সেই শপথ নেওয়ার ভিডিওতেও একই পোশাকে দেখা যায়। অর্থাৎ, সুমন এবং আটক ব্যক্তিরা একই ট্রলারে ছিলেন। গণমাধ্যমে দেওয়া সুমনের খালুর বক্তব্য অনুযায়ী আটক এই ব্যক্তিরা ব্যতিত বাকিরা পুলিশের ধাওয়ার সময় নদে লাফ দেয়। 

পাশাপাশি প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সুমনের মরদেহ উদ্ধারের পর আরিফ হাসান রাকিব নামের রানাভোলা এলাকার আরেক বাসিন্দার মরদেহ তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার করা হয়। প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, রাকিবও রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন এবং তারও গত ২২ জুন সকাল ১১ টায় পরিবারের সাথে শেষ যোগাযোগ হয়।

এছাড়াও একই দিন দিয়াবাড়িতে তুরাগ নদ থেকে আরেকজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে রনি মোল্লা নামের ওই ব্যক্তি কয়েকজনের সঙ্গে গোসল করতে গিয়ে ডুবে মারা যান। তার সাথে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ, গত দুইদিনে তুরাগ নদ থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও একজনের নিহত হওয়ার সাথে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই।

রিউমর স্ক্যানারের পর্যবেক্ষণে মূল ধারার গণমাধ্যম যমুনা টিভিতে আশুরার তাজিয়া মিছিলে জাকির হোসেন নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার প্রতিবেদনে সুমনের ছবি ব্যবহার করতে দেখা যায়।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে ‘তদন্তে’ উঠে আসা তথ্য

দৈনিক দেশ রূপান্তর তাদের এক প্রতিবেদনে দাবি করে, তুরাগের ঘটনায় পুলিশের তিনটি ইউনিট তদন্তে নেমেছে। তার মধ্যে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি টিম আওয়ামী লীগের মিছিলে পুলিশ ধাওয়া দেওয়ায় দুজনের মৃত্যুর সত্যতা পেয়েছে।

তদন্তে ডিবির ওই টিম জানতে পারে, গত ২২ জুন ৩টার দিকে তুরাগ থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিকের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের ২৫ থেকে ৩০ নেতাকর্মী নৌকাযোগে আশুলিয়ার রুস্তমপুর ঘাট থেকে আশুলিয়া বাজার ঘাটে মিছিল করার উদ্দেশ্যে আসেন। তুরাগের নলভোগ এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা কফিল উদ্দিন মেম্বার এবং রানাভোলা এলাকার মামুন তাদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন। নেতাকর্মীরা রস্তমপুর ঘাট থেকে অজয় নামের এক মাঝিকে ঠিক করেন এবং আশুলিয়া বাজার ঘাটের উদ্দেশে রওনা হন। তারা ঘাটে পৌঁছে নৌকা থেকে নামার চেষ্টা করলে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী ও পুলিশ তাদের ধাওয়া করে। এ সময় তারা দ্রুত পুনরায় নৌকায় ওঠে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে তাড়াহুড়োর কারণে নৌকার নোঙর তুলতে ব্যর্থ হন। পুলিশ নৌকার নোঙর ধরে ফেললে নৌকায় থাকা নেতাকর্মীরা তুরাগে ঝাঁপ দেন। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মোট সাতজনকে আটক করে। তুরাগে নদে তীব্র স্রোত থাকায় সুমন ও আরিফুল ইসলাম রাকিব নামে দুজন পানিতে তলিয়ে যান। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কেউই জানতে পারেননি। পরে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পানিতে তলিয়ে থাকার কারণে মরদেহগুলো বিকৃত হয়ে যায়।

দাবির সত্যতা নিয়ে কী বলছে পুলিশ?

আলোচিত এ ঘটনায় গতকাল সন্ধ্যায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন আওয়ামী লীগের মিছিল থেকে সাতজন নিখোঁজ হওয়া ও তুরাগ নদে তাদের সাতটি মরদেহ উদ্ধারের দাবিটি ভিত্তিহীন দাবি করে সুমন ও রনি নামে দুই ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে কথিত নিখোঁজের দাবির কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানান। এছাড়াও তাদের মৃত্যু ভিন্ন কারণে হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Share: