কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শরীয়তপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বিএম মোজাম্মেল হক মামলা থেকে খালাস পেয়ে কারামুক্ত হয়েছেন বলে একটি দাবি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।
উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আওয়ামী লীগ নেতা বিএম মোজাম্মেল হক একটি চাঁদাবাজির মামলায় সম্প্রতি খালাস পেলেও কারামুক্ত হননি। তার বিরুদ্ধে আর মামলা থাকায় এখনই তার কারামুক্তির সুযোগ নেই।
অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত পোস্টের মন্তব্য ঘরে দাবির সূত্র হিসেবে একটি ফেসবুক পোস্টের লিংক সংযুক্ত থাকতে দেখা যায়। লিংকে বিএম মোজাম্মেল হক নামের একটি ফেসবুক পেজের পোস্ট পাওয়া যায়।
পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়, “আলহামদুলিল্লাহ, সব মিথ্যা মামলায় খালাস পেয়ে ১৮১ দিন পর কারামুক্ত হয়েছি। খেলা শেষ পর্যায়ে ইনশাআল্লাহ, ডিপ স্টেট ও মিত্রবাহিনীর যৌথ প্রচেষ্টায় সর্বোচ্চ সামরিক প্রোটোকল নিয়ে ফিরছেন দেশরত্ন শেখ হাসিনা, রাজকীয় প্রত্যাবর্তন হবে আগামী ৩ মাসের মধ্যে।”
উক্ত ক্যাপশনের সাথে পোস্টে একটি ছবিও সংযুক্ত করা হয় যেখানে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার লেখা একটি ভবনের সামনে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যের মাঝে বিএম মোজাম্মেল হককে দাঁড়িয়ে রয়েছেন।
উল্লেখিত পোস্টের মন্তব্য ঘরে উক্ত পেজ থেকে বলা হয়, “ধন্যবাদ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে, কারামুক্ত হয়ে এখন থেকে সাভার সেনানিবাসের গেস্ট হাউজে অবস্থান করবো। পরবর্তী আপডেট ও সকল কর্মসূচীর আগাম নিউজ পেতে এখনই আমার পেজটা ফলো করুন।”
একই পেজ থেকে একটি পোস্ট আকারেও উল্লেখিত মন্তব্যটি প্রচার করা হয়। যার সাথে একটি একটি ছবিও জুড়ে দেওয়া হয়েছে যেখানে বিএম মোজাম্মেল হককে এক সেনা কর্মকর্তার সাথে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তবে রিউমর স্ক্যানারের বিশ্লেষণ এবং এআই শনাক্তকারী প্লাটফর্ম বলছে ছবিটি এআই তৈরির সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।

উক্ত পোস্টকে সূত্র হিসেবে ব্যবহার করে ফেসবুকে আরেক পোস্টে দাবি করা হয়, “গণেশ উল্টে গেছে
সেনাবাহিনী সরকারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে, ক্যান্টনমেন্টে জড়ো হচ্ছেন আওয়ামী লীগের মন্ত্রী এমপিরা।”
পরবর্তীতে, আলোচিত দাবির বিষয়ে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এর সাথে যোগাযোগ করে রিউমর স্ক্যানার টিম। আইএসপিআরের পক্ষ থেকে দাবিটি ভুয়া বলে রিউমর স্ক্যানারকে নিশ্চিত করা হয়।

সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যের মাঝে বিএম মোজাম্মেল হকের দাঁড়িয়ে থাকার ছবিটি পুরোনো একটি ছবিকে এআই প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনা করে তৈরি করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছে রিউমর স্ক্যানার টিম। ২০২৪ সালে ০৯ আগস্ট তেজগাঁও থানা প্রাঙ্গণে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ সংবাদ সম্মেলনের একটি ছবির সাথে আলোচিত ছবির অনেকাংশে মিল রয়েছে। আলোচিত ছবিতে পুলিশ ও সেনা সদস্যদের পেছনে থাকা ভবনে ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার’ লেখা থাকলেও এই ছবিতে ওই স্থানে ‘তেজগাঁও থানা’ লেখা রয়েছে। এছাড়া আলোচিত ছবিতে সিভিল পোশাকে থাকা ব্যক্তির বাম পাশে বিএম মোজাম্মেল হককে দেখা গেলেও মূল ছবিতে ওই স্থানে একজন সেনাকর্মকর্তাকে দেখা যায়। যা থেকে নিশ্চিত যে আলোচিত ছবিটি আসল নয়।

পরবর্তীতে ‘বিএম মোজাম্মেল হক’ নামক ফেসবুক পেজটির ট্রান্সপারেন্সি সেকশন পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, পেজটি গত ৫ এপ্রিল চালু করা হয়েছে। পেজটির কার্যক্রম পর্যালোচনা করে এটি নিশ্চিত যে পেজটি বিএম মোজাম্মেল হকের নয়।
বিএম মোজাম্মেল হকের কারামুক্তির বিষয়ে অনুসন্ধানে জানা যায়, ২৫ লাখ টাকার চাঁদাবাজির এক মামলায় বাদী অভিযোগ তুলে নেওয়ায় মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা বিএম মোজাম্মেল হক। ঢাকার চতুর্দশ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মাহমুদা আক্তার ০৫ এপ্রিল এ রায় ঘোষণা করেন। তবে বিএম মোজাম্মেলের বিরুদ্ধে আরো মামলা থাকায় এখনই তার মুক্তি মিলছে না বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী মো. লিটন মিয়া। প্রতিবেদনটি থেকে আরও জানা যায়, রায় ঘোষণার পরে তাকে আবার কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সুতরাং, আওয়ামী লীগ নেতা বিএম মোজাম্মেল হক কারামুক্ত হয়েছেন শীর্ষক দাবিটি মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Bdnews24- চাঁদাবাজি মামলায় খালাস পেলেন সাবেক এমপি মোজাম্মেল, মুক্তি মিলছে না এখনই
- Desh Rupantor- সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ঢাকার ২৯ থানার কার্যক্রম শুরু
- Statement of ISPR
- Hive Detect- Al Result (1)
- Hive Detect- AI Result (2)


