বাংলাদেশ থেকে ইরানে ত্রাণ পাঠানোর দাবিতে এআই-তৈরি ছবি প্রচার

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এ ঘটনায় ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে। এরপর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে হামলা পাল্টা হামলা চলমান। এরই প্রেক্ষিতে বিশ্ব বাণিজ্যে একটি মন্দাভাব চলছে।

এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ থেকে পাঠানো ত্রাণবাহী জাহাজ ইরানের পৌঁছেছে দাবিতে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। ছবিতে ‘বাংলাদেশ ত্রাণ সহায়তা ইরানের জন্য’ লেখা একটি ব্যানার দেখা যায়। এছাড়া সেখানে বাংলাদেশ ও ইরানের পতাকাও প্রদর্শিত হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

একই দাবির টিকটক পোস্ট দেখুন এখানে

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ছবিটি আসল নয় সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ থেকে ইরানে ত্রাণ পাঠানোর কোনো তথ্যও পাওয়া যায়নি। প্রকৃতপক্ষে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া ছবি তৈরির মাধ্যমে এই দাবি প্রচার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে মূলধারার গণমাধ্যম কিংবা বিশ্বস্তসূত্রে আলোচিত দাবির স্বপক্ষে কোনো তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। তবে বাংলাদেশের জন্য জ্বালানিবাহী জাহাজকে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে বলে ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমী জাহানাবাদী জানিয়েছেন। এ তথ্য দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

চলমান সংঘাতটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে আলোচিত হওয়ায় ক্ষুদ্র ঘটনাও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে শিরোনাম হচ্ছে। সে বিবেচনায় বাংলাদেশ থেকে ইরানে ত্রাণ পাঠানো হলে সেটিও গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হওয়ার কথা। কিন্তু এ ধরনের কোনো তথ্য কোনো গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি।

প্রচারিত ছবিটি পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, এতে থাকা মানুষের ছবি, জাহাজের ছবি ও পারিপার্শ্বিক দৃশ্যে অস্বাভাবিকতা রয়েছে, যা সাধারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি বিষয়ে দেখা যায়।

বিষয়টি আরও নিশ্চিত হতে এআই-তৈরি কনটেন্ট শনাক্তকারী টুল হাইভ ডিটেক্টের মাধ্যমে ছবিটি পরীক্ষা করে রিউমর স্ক্যানার। টুলটির বিশ্লেষণে দেখা যায়, ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।

এছাড়াও আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবিটির সূত্রপাতের বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘12 মায়া বিনোদন’ নামের একটি ফেসবুক পেজে গত ১১ মার্চ ছবিটি পোস্ট হতে দেখা যায়।

‘12 মায়া বিনোদন’ পেজটি পর্যবেক্ষণ করলে পেজের বায়োতে ‘আসসালামু আলাইকুম আমার ফেসবুক পেজে যত পোস্ট দেখতেছেন আমি সবগুলো এআই দিয়ে তৈরি করি কেউ বাস্তব মনে করে ভুল করবেন না এগুলো কিছুই বাস্তব না সবগুলোই ai’’ এছাড়াও, পেজটি পর্যবেক্ষণ করলে এরূপ আরো অনেক এআই-তৈরি ছবি পাওয়া যায়। এ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে আলোচিত ছবিটিও এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।

সুতরাং, বাংলাদেশ থেকে পাঠানো ত্রাণবাহী জাহাজ ইরানে পৌঁছেছে দাবিতে প্রচারিত ছবিটি এআই ব্যবহার করে তৈরি।

তথ্যসূত্র

Share: