সম্প্রতি, ‘আমাকে ভাত দাও, তিনবার বলার পর ও বউ ব্যাস্ত টিকটক নিয়ে বাকিটা ভিডিও তে দেখুন’ ও ‘প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি……… নাম- রুমা। বিয়ে হয়েছে খুব সাধারণ পরিবারের ছেলের সাথে। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই নানা অজুহাতে তাকে মারধর আরম্ভ করে। মারার কারণ থাকে- ছেলে টাকা চাওয়ার পর টাকা না পেলে। খাবার রান্না পছন্দ না হওয়া। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিবে বলে আশাবাদী।’ শিরোনামে দুইটি ভিন্ন ভিন্ন দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিওটি দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত ভিডিওটি দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি টিকটক নিয়ে ব্যস্ত থাকায় স্ত্রীকে মারধর কিংবা বাংলাদেশে যৌতুকের জন্য নির্যাতনের কোনো ঘটনার নয়। প্রকৃতপক্ষে, ভারতের অন্ধ্র প্রদেশে স্ত্রীকে নির্যাতনের ভিডিওকে আলোচিত আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের ওয়েবসাইটে গত ১৭ নভেম্বর ‘Andhra man ties up wife, thrashes her with belt as neighbours try to intervene’ শিরোনামে প্রচারিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদনে সংযুক্ত ভিডিওর সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওর মিল রয়েছে।

উক্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, অন্ধ্রপ্রদেশের প্রাকাশম জেলায় এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বেঁধে বেল্ট ও লাথি দিয়ে নৃশংসভাবে মারধর করে। প্রতিবেশীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তিনি হামলা চালিয়ে যান। চার সন্তানের এই মা বেকারিতে কাজ করে সংসার চালান, আর ওই ব্যক্তি হায়দরাবাদে অন্য এক নারীকে বিয়ে করে তার সঙ্গে বসবাস করেন তবে মাঝে মাঝেই গ্রামে ফিরে এসে তাকে হয়রানি ও টাকা দাবি করেন।
এ বিষয়ে আরো অনুসন্ধান করে ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের ওয়েবসাইটে গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের প্রাকাশম জেলায় বলরাজু নামের এক ব্যক্তি স্ত্রীকে কাঠের খুঁটিতে বেঁধে নির্মমভাবে নির্যাতন করেন। ঘটনাটির ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। চার সন্তানের মা ভাগ্যম্মা স্বামীর চিকিৎসার খরচের টাকা দিতে অস্বীকার করায় এবং পরকীয়ার সন্দেহে বালরাজু তাকে মারধর করেন। পরে তার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) ৮৫ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
এ বিষয়ে সেসময় অন্যান্য ভারতীয় গণমাধ্যমও সংবাদ প্রচার (১, ২, ৩) করে।
অর্থাৎ, ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়।
সুতরাং, ভারতে স্ত্রীকে নির্যাতনের ভিডিওকে বাংলাদেশে যৌতুকের দাবিতে নারী নির্যাতন ও টিকটক নিয়ে ব্যস্ত থাকায় স্ত্রীকে মারধরের দৃশ্য দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।


