সম্প্রতি, “পুলিশ বোন কেও ছেড়ে দিচ্ছ না’’ শীর্ষক দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ) ।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওতে কান্নারত নারী বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য নন। প্রকৃতপক্ষে, তিনি ভারতের আসামের পুলিশ সদস্য। গেল ডিসেম্বরে আসামে বিক্ষোভকারীদের সাথে সংঘর্ষে এই নারী পুলিশ সদস্য আহত হন। এটি সেই ঘটনার দৃশ্য।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানের ‘the.assam_enquiry’ নামক ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর প্রচারিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওর সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওর মিল রয়েছে।

উক্ত ভিডিওর ক্যাপশন থেকে জানা যায়, এটি ভারতের আসামের পশ্চিম কার্বি আংলং জেলার ঘটনা। সেখানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এটি সেই ঘটনার দৃশ্য।
উল্লিখিত তথ্যের সূত্র ধরে উক্ত ভিডিওর বিষয়ে ভারতীয় একাধিক গণমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদ (১, ২) খুঁজে পাওয়া যায়।
দ্য উইকের ওয়েবসাইটে গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আসামের সংঘাতপ্রবণ কার্বি আংলং জেলায় নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দুইজন নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ৪৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৩৮ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। প্রতিবাদকারী দুইটি গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা বাহিনী লাঠিচার্জ করে এবং টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। (অনূদিত)
অর্থাৎ, ভিডিওর নারী বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য নন।
সুতরাং, আসামে বিক্ষোভকারীদের সাথে সংঘর্ষে আহত নারী পুলিশের ভিডিওকে বাংলাদেশে হিন্দু নারী পুলিশকে নির্যাতনের দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- The.assam_enquiry – Instagram Post
- The Week – Assam 2 killed 38 policemen among 45 injured in violence-hit Karbi Anglong


