কুমিল্লার ভিন্ন ঘটনাকে আসামে হিন্দুর ঘরে বাংলাদেশি মুসলমানের চুরি দাবিতে প্রচার

সম্প্রতি, ভারতের আসামের কোকরাঝাড়ে এক হিন্দুর ঘরে লোহার গ্রিল কেটে এক বাংলাদেশি মুসলমান চোরের ঢোকার দৃশ্য দাবিতে একটি ভিডিও একাধিক ভারতীয় অ্যাকাউন্ট থেকে ইন্টারনেটে বিভিন্ন প্লাটফর্মে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

উক্ত দাবিতে এক্সে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

উক্ত দাবিতে ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)৷

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, চোর ধরা পড়ার প্রচারিত ভিডিওর ঘটনাটি ভারতের নয়। প্রকৃতপক্ষে, বাংলাদেশের কুমিল্লা নগরীতে একটি ভবনের বারান্দার গ্রিলে আটকে থাকা এক যুবকের ভিডিও উক্ত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে শুরুতে প্রচারিত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে এটির ওপরে ডান পাশে ‘Kokrajhar খৱৰ’’ নামের একটি লোগো দেখা যায়। ভিডিওটির সূত্র জানতে ‘Kokrajhar খৱৰ’ নামক ফেসবুক পেজটি খুঁজে বের করে রিউমর স্ক্যানার। গত ১২ মে উক্ত পেজে ১৭ সেকেন্ডের এই ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। এটির ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয় “চুরি করতে এসে জনগণের রোষানলে পড়ল চোর।” (অসমীয়া থেকে অনূদিত)। তবে, ঘটনাটি কোন জায়গায় ঘটেছে সে প্রসঙ্গে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

অনুসন্ধানে, এ বিষয়ে দেশের মূল ধারার গণমাধ্যম এনটভির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

উক্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ১০ মে নগরীর আদালত এলাকার পূর্ব পাশে ব্যবসায়ী ফয়সাল আহমেদের বাসায় ঘটনাটি ঘটে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে, তিনতলা ভবনের নিচতলার গ্রিলে আটকে থাকা এক যুবককে ঘিরে উৎসুক জনতার ভিড় দেখা যায়। ওই যুবক গ্রিল থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছেন এবং আশপাশের লোকজন তাকে ‘চোর’ বলে দাবি করছেন।আটক যুবকের নাম মারজান আহমেদ জিহাদ (২০)। তিনি নগরীর ইয়াসিন মার্কেট এলাকার বাসিন্দা।ওই ভবনের ভাড়াটিয়া আইনজীবী জাহিদ চৌধুরী বলেন, জিহাদ চুরি করতে আসেননি। দীর্ঘদিন ধরে আদালত এলাকায় বিয়ে করতে আসা ছেলে-মেয়েদের টার্গেট করে একটি চক্র জিম্মি করে। পরে তারা বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করে। রোববার দুপুরে এক ছেলে ও এক মেয়ে বিয়ে করতে ওই বাসায় আসেন। তাদেরকে অনুসরণ করে জিহাদও সেখানে যান এবং বাইরে তার আরও কয়েকজন সহযোগী ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।আইনজীবী জাহিদ চৌধুরী আরও বলেন, গতকাল রোববার ছেলে-মেয়ের বয়স কম হওয়ায় আইনগতভাবে বিয়ে সম্ভব নয় বলে জানানো হয়। এ সময় জিহাদ তাদের বিষয়ে কথা বলতে ওই বাসায় যান। পরে তার পরিচয় জানতে চাওয়া হলে তিনি নার্ভাস হয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। দরজা বন্ধ থাকায় গ্রিল দিয়ে বের হতে গিয়ে আটকে যান জিহাদ।

এ বিষয়ে অন্যান্য গণমাধ্যমে (, ) প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকেও একই তথ্য জানা যায়।

অর্থাৎ, আলোচিত ভিডিওর ঘটনাটি ভারতে ঘটেনি। ভিডিওটি বাংলাদেশের এবং উক্ত বাড়ির মালিক ইসলাম ধর্মাবলম্বী।

সুতরাং, ভারতের আসামে হিন্দু বাড়িতে বাংলাদেশি চোর ধরা পড়ার দৃশ্য দাবিতে বাংলাদেশের কুমিল্লার ভিন্ন ঘটনার ভিডিও প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা৷

তথ্যসূত্র

Share: