‘আমরা এসি রুমে ছিলাম সত্য কিন্তু আমাদের ফেসবুক চালাতে দেয়নি ডিজিএফআই’ শীর্ষক মন্তব্য করেনি ব্রিগেডিয়ার আজমী ও ব্যারিস্টার আরমান

সম্প্রতি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর ও যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত প্রয়াত গোলাম আযমের ছেলে সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা ও যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত প্রয়াত মীর কাশেম আলীর ছেলে ব্যারিস্টার আহমাদ বিন কাসেমকে (আরমান) উদ্ধৃত করে ‘আমরা এসি রুমে ছিলাম এটা সত্য, কিন্তু আমাদের ফেসবুক চালাতে দেয়নি ডিজিএফআই’ শিরোনামে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি বাংলার ডিজাইন সংবলিত একটি ফটোকার্ড প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে প্রচারিত ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরকে (ডিজিএফআই) জড়িয়ে আজমী ও আরমান এমন কোনো মন্তব্য করেননি এবং বিবিসি বাংলাও এমন কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ প্রচার করেনি। প্রকৃতপক্ষে, বিবিসি বাংলার ফটোকার্ড ডিজাইন নকল করে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ফটোকার্ডটিতে বিবিসি বাংলার লোগো রয়েছে।উক্ত তথ্যাবলীর সূত্র ধরে বিবিসি বাংলার ফেসবুক পেজে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে আলোচিত শিরোনাম সংবলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইটইউটিউব চ্যানেলে উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে বিবিসি বাংলায় প্রচলিত ফটোকার্ডের শিরোনামে ব্যবহৃত ফন্টের পার্থক্যও লক্ষ্য করা যায়।

অর্থাৎ, বিবিসি বাংলার ফটোকার্ড ডিজাইন নকল করেই আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

ব্যারিস্টার আরমানের ফেসবুক প্রোফাইল ও সাবেক সেনাকর্মকর্তা আজমীর ফেসবুক প্রোফাইল খতিয়ে দেখোও এমন কোনো মন্তব্যের প্রমাণ পাওয়া যায় নি। এছাড়া, আলোচিত তথ্যটি কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র বা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার প্রমাণও পাওয়া যায়নি। তাদের মতো আলোচিত ব্যক্তিত্ব এমন মন্তব্য করলে তা স্বাভাবিকভাবেই মূলধারার গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হওয়ার কথা ছিল।

সুতারাং, ডিজিএফআইকে জড়িয়ে আজমী ও আরমানকে উদ্ধৃত করে বিবিসি বাংলার নামে প্রচারিত এই ফটোকার্ডটি ভুয়া ও বানোয়াট।

তথ্যসূত্র

Share: