বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যমুনা ঘেরাও এবং তিন বাহিনী প্রধানের যমুনায় প্রবেশ দাবিতে ভুয়া তথ্য প্রচার

সম্প্রতি, ‘যমুনা ঘেরাও করেছে সেনাবাহিনী তিন বাহিনীর প্রধান জোরপূর্বক যমুনায় প্রবেশ করেছে অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই সুখবর আসছে ভিডিও কমেন্টে’ শীর্ষক একটি দাবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা যা বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন ঘিরে ফেলা ও তিন বাহিনীর প্রধানের জোরপূর্বক যমুনায় অনুপ্রবেশের দাবিগুলো সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই ব্লগস্পটের ফ্রি ডোমেইন সাইটে প্রকাশিত কথিত প্রতিবেদনের বরাতে ভুয়া এই দাবি প্রচার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ফেসবুকের উক্ত দাবির কতিপয় পোস্টগুলোতে দুটি ব্লগপোস্টের লিংক(, ) সূত্র হিসেবে দেওয়া হয়েছে। রিউমর স্ক্যানারের বিশ্লেষণে ‘bbcbangla76246.blogspot.com’ ও ‘shadhinn71.blogspot.com’ নামের ব্লগস্পটের বিনামূল্যের ডোমেইনের এই সাইটগুলো ভূঁইফোড় সাইট বলে প্রতীয়মান হয়। এসব সাইটে ‘যমুনায় উত্তেজনা-প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনে তিন বাহিনীর প্রধানদের প্রবেশ, ডঃ ইউনুসের ওপর পদত্যাগের চাপ অভিযোগ’ শীর্ষক কথিত দাবির বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে এবং এর প্রকাশকাল হিসেবে যথাক্রমে ২৩ নভেম্বর ও ২৪ নভেম্বর উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদগুলোতে একটি ভিডিও সংযুক্ত থাকলেও সেটিতে ক্লিক করলে তা সঠিকভাবে চালু না হয়ে বরং এটি বিভিন্ন জুয়ার সাইটে প্রবেশ করে ।

কথিত এই সংবাদগুলোতে দাবি করা হয়, রাজধানীতে রাজনৈতিক অস্থিরতা চরমে উঠেছে এমন একটি পরিস্থিতি নিয়ে তুমুল আলোড়ন শুরু হয়েছে। তিন বাহিনীর প্রধান আকস্মিকভাবে প্রধান উপদেষ্টা ডঃ মুহাম্মদ ইউনুসের সরকারি বাসভবন যমুনায় প্রবেশ করে তাঁকে পদত্যাগের জন্য চাপ দিচ্ছেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গেই দেশজুড়ে নতুন করে উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। হঠাৎ পরিস্থিতি ঘিরে রহস্য।

অনানুষ্ঠানিক সূত্রের বরাতে বলা হয়, সন্ধ্যার পর হঠাৎই সামরিক বাহিনীর গাড়িবহর যমুনার ভেতরে ঢোকে। এতে সামরিক, নৌ ও বিমান বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে থাকা কর্মকর্তারা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকে বসেন, যেখানে তাঁকে “পরিস্থিতির স্বার্থে দায়িত্ব ছাড়ার” প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠে। ডঃ ইউনুসের অবস্থান কী? বাসভবনের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাতে বলা হয়, ডঃ ইউনুস চাপের মুখেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেননি এবং তিনি পরিস্থিতি “রাষ্ট্রপতি ও উপদেষ্টা পরিষদের” সঙ্গে আলোচনা করে তবেই মন্তব্য করবেন বলে জানিয়েছেন। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠরা বলছেন, ডঃ ইউনুস কোনোভাবেই অনিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরে রাজি নন।

প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ঘেরাওয়ের মতো ঘটনা ঘটলে উক্ত বিষয়ে দেশের গণমাধ্যমগুলোতে ঢালাওভাবে সংবাদ প্রচার হতো। কিন্তু, গণমাধ্যম কিংবা সংশ্লিষ্ট বিশ্বস্ত কোনো সূত্রে এ বিষয়ে কোনো সংবাদ বা তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং, গতকাল ২৪ ডিসেম্বর দেশের সাম্প্রতিক ভূমিকম্প পরিস্থিতি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয় জানা গেছে।

উল্লেখ্য, ফ্রি ডোমেইনের ব্লগসাইট ব্যবহার করে অপতথ্য ছড়ানোর এই পদ্ধতি গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকেই ব্যবহার হয়ে আসছে। রিউমর স্ক্যানারের ইনভেস্টিগেশন ইউনিট এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যাতে বেরিয়ে এসেছে এসব সাইটের পেছনে কারা আছেন, কারাই বা এসব সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন এবং কাদের এসব অপতথ্যের শিকার বানানো হচ্ছে।

সুতরাং, সেনাবাহিনীর যমুনা ঘেরাও করা এবং তিন বাহিনীর প্রধানের জোরপূর্বক যমুনায় অনুপ্রবেশ দাবিতে প্রচারিত তথ্যগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: