রক্তমাখা এই জামাগুলো ওসমান হাদির নয়

সন্ত্রাসীর গুলিতে নিহত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির রক্তমাখা পোশাকের ছবি দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গত জানুয়ারি থেকে একটি ছবি প্রচারিত হতে দেখে রিউমর স্ক্যানার। প্রচারিত ছবিটিতে দেখা যায়, রক্তমাখা পোশাকগুলো বাড়ির উঠানে শুকাতে দেওয়া হয়েছে। 

ফেসবুকে প্রচারিত এমন পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ইনস্টাগ্রামের একই ছবি সংবলিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, আলোচিত ছবিতে দেখতে পাওয়া রক্তমাখা পোশাকগুলো শরিফ ওসমান হাদির নয়। প্রকৃতপক্ষে, পোশাকগুলো ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত হাফেজ দ্বীন ইসলাম নামের ভিন্ন আরেক ব্যক্তির। তার পোশাকের এই ছবিকে ওসমান হাদির দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে আকিফ আব্দুল্লাহ নামের একজন ব্যক্তির ফেসবুক অ্যাকাউন্টে গত ৬ জানুয়ারি একই ছবিটি প্রচারিত হতে দেখা যায়। পোস্টটিতে আকিফ আব্দুল্লাহ উল্লেখ করেন, ছবিটি ওসমান হাদির রক্তমাখা জামার নয় বরং জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত হাফেজ দ্বীন ইসলাম নামের ভিন্ন আরেক ব্যক্তির। ছবিটি তিনি দ্বীন ইসলামের বাবার কাছ থেকে নিয়েছিলেন বলেও ‍উল্লেখ করেন।

এছাড়াও পোস্টটির শিরোনাম থেকে জানা যায়, ছবিটি তিনি সুমাইয়া নামে একজন দেখিয়েছিলেন। যেটি ওই নারী তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আপলোড করলে সেখান থেকে সংগ্রহ করে বাকিরা ওসমান হাদির পোশাক দাবিতে প্রচার করেন।

পরবর্তীতে ছবিটির বিষয়ে নিশ্চিত হতে আকিফ আব্দুল্লাহর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি রিউমর স্ক্যানারকে জানান, ছবিতে দেখতে পাওয়া রক্তমাখা জামাটি হাফেজ দ্বীন ইসলাম নামের একজন ব্যক্তির। জুলাই জাদুঘর নিয়ে কাজ করার সময় তিনি জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের বাড়িতে বাড়িতে যান। সে উদ্দেশ্যেই দ্বীন ইসলামের বাড়িতে গেলে তখন নিহতের বাবা তাকে ছবিটি দেন বলেও জানান তিনি।

পাশাপাশি সুমাইয়া আমিন নামের ওই নারীর পোস্টটিরও সন্ধান পাওয়া যায়। তার পোস্টটির এডিট হিস্টোরি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তিনি গত ৩ জানুয়ারি প্রথম ছবিটি আপলোড করেন। কিন্তু সেসময় ছবিতে দেখতে পাওয়া জামাগুলো করা সেটি উল্লেখ না করায় বিভ্রান্তিটি ছড়িয়েছে বলে ধারণা করা যাচ্ছে।

সুতরাং, জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত হাফেজ দ্বীন ইসলামের রক্তমাখা পোশাককে শরিফ ওসমান হাদির পোশাকের ছবি দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

  • আকিফ আব্দুল্লাহ Facebook Post
  • Statement of Akif Abdullah 
  • Sumaiya Amin Facebook Post
  • Rumor Scanner’s Analysis
Share: