খুঁটিতে বেঁধে এক ব্যক্তির হাত ও পা বিচ্ছিন্ন করেছে বিএনপির ২ কর্মী শীর্ষক দাবিতে প্রথম আলোর সম্পাদিত ফটোকার্ড প্রচার

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর লোগো সংবলিত একটি ফটোকার্ড প্রচারিত হয়। যেখানে চিকিৎসাধীন এক যুবকের ছবি যুক্ত করে দাবি করা হয়, “খুঁটিতে বেঁধে ছেলেটির হাত ও পা বিচ্ছিন্ন করেছে বিএনপির ২ কর্মী”

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘খুঁটিতে বেঁধে ছেলেটির হাত ও পা বিচ্ছিন্ন করেছে বিএনপির ২ কর্মী’ শিরোনামে প্রথম আলো কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ প্রকাশ করেনি বরং, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় গণমাধ্যমটির ভিন্ন একটি ফটোকার্ড সম্পাদনার মাধ্যমে এই ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এতে মূলধারার গণমাধ্যম প্রথম আলোর লোগো এবং প্রকাশের তারিখ হিসেবে ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ উল্লেখ রয়েছে। উল্লেখিত তথ্যাবলীর সূত্র ধরে প্রথম আলোর ফেসবুক পেজে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে উক্ত শিরোনাম সংবলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া প্রথম আলোর ওয়েবসাইটেও উক্ত দাবির সপক্ষে কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তবে, গত ২৭ ডিসেম্বর প্রথম আলোর ফেসবুক পেজে প্রচারিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়। ফটোকার্ডটি পর্যালোচনা করে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডের ছবি ও গ্রাফিক্যাল ডিজাইনের সাথে এর সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। তবে ফটোকার্ড দুইটির শিরোনামে ভিন্নতা রয়েছে। প্রথম আলোর ফটোকার্ডটিতে “খুঁটিতে বেঁধে কুপিয়ে তরুণের হাত-পা প্রায় বিচ্ছিন্ন, জামায়াতের ২ কর্মী গ্রেপ্তার” শীর্ষক বাক্য থাকলেও আলোচিত ফটোকার্ডে ‘খুঁটিতে বেঁধে ছেলেটির হাত ও পা বিচ্ছিন্ন করেছে বিএনপির ২ কর্মী’ শীর্ষক বাক্য লেখা রয়েছে।

অর্থাৎ, প্রথম আলোর এই ফটোকার্ডটি সম্পাদনা করেই আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।


মূল ফটোকার্ড সংবলিত পোস্টটির মন্তব্য ঘরে পাওয়া এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রতিবেদনে জানা যায়,
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় আবু সুফিয়ান (২২) নামের এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। এতে ওই তরুণের দুই হাত ও এক পা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।আহত সুফিয়ানের মায়ের অভিযোগ, এক স্বজন কিশোরীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদের জেরে সুফিয়ানকে মারধর ও কুপিয়ে জখম করেন জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের স্থানীয় কর্মীরা। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) রাতে সুফিয়ানের বাবা রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১২ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে শিবগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেছেন। পরে অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

এছাড়া, অন্য কোনো মূলধারার গণমাধ্যমেও আলোচিত দাবিটি সমর্থন করে এমন কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি।

সুতরাং, ‘খুঁটিতে বেঁধে ছেলেটির হাত ও পা বিচ্ছিন্ন করেছে বিএনপির ২ কর্মী’ শিরোনামে প্রথম আলোর নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি সম্পাদিত।

তথ্যসূত্র

Share: