বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহকে গুলির ঘটনায় শিবিরকর্মী আটক দাবিতে ভিন্ন ঘটনার ছবি প্রচার

গত ৫ নভেম্বর চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানার চালিতাতলী এলাকায় গণসংযোগের সময় গুলিবিদ্ধ হন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের বিএনপি মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ। একই ঘটনায় সরোয়ার হোসেন বাবলা নামে একজন নিহত হন। এরই প্রেক্ষিতে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ছবি প্রচার করে দাবি করা হয়েছে, ‘চট্টগ্রাম বিএনপি নেতা এরশাদউল্লাহ হত্যার মুল হোতা শিবিরকর্মী কুমিল্লা থেকে আটক’।

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

এরূপ দাবিতে ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ছবিটি সম্প্রতি বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহকে গুলির ঘটনায় শিবিরকর্মী আটকের ছবি নয় বরং, নাটোরের বড়াইগ্রামে মাদ্রাসার ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে গত ১২ মার্চে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আবদুর রহিমের ছবি আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে। এছাড়া এরশাদ উল্লাহ হত্যার দাবিটিও ভুয়া।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে মূলধারার গণমাধ্যম ‘সময় টিভি’র ওয়েবসাইটে ‘ছাত্রকে বলাৎকারের দায়ে মাদ্রাসা শিক্ষকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড’ শিরোনামে গত ১২ মার্চে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে একটি ছবিরও সংযুক্তি পাওয়া যায়, যার সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবির মিল পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, নাটোরের বড়াইগ্রামে মাদ্রাসার ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসার শিক্ষক আবদুর রহিমকে (২৭) গত ১২ মার্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া অভিযুক্ত শিক্ষকের ৫০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়াও, প্রতিবেদনে ছবির বিষয়ে বলা হয়, ছবিটি যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আবদুর রহিমের।

অনুসন্ধানে উক্ত মাদ্রাসা শিক্ষকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিষয়ে গত মার্চে আরো একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হতে দেখা যায়, যার অনেকগুলোতে আলোচিত শিক্ষকের ছবিরও সংযুক্তি পাওয়া যায়।

এদিকে বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহর সর্বশেষ পরিস্থিতির বিষয়ে অনুসন্ধানে সংবাদমাধ্যম ‘মানবজমিন’ এর ওয়েবসাইটে ৯ নভেম্বরে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সূত্রে জানা যায়, এরশাদ উল্লাহ বর্তমানে শঙ্কামুক্ত এবং তার শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। বর্তমানে তিনি ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রেই এরশাদ উল্লাহ নিহত হওয়ার দাবির সপক্ষে কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে এরশাদ উল্লাহর জনসংযোগে গুলির ঘটনায় অভিযুক্ত ও আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে অনুসন্ধানে কেবল এরশাদ উল্লাহকে গুলির ঘটনায় কোনো মামলা হওয়া বা কারোর আটকের কোনো তথ্য গণমাধ্যম সূত্রে পাওয়া যায়নি। তবে এ বিষয়ে জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো’র ওয়েবসাইটে গত ৭ নভেম্বরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর জনসংযোগে গুলি করে ‘সন্ত্রাসী’ সরোয়ার হোসেন ওরফে বাবলাকে হত্যার ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। সরোয়ার হত্যায় গ্রেপ্তার দুজন হলেন হেলাল হোসেন ওরফে মাছ হেলাল ও আলা উদ্দিন। গ্রেপ্তার দুজনই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। এ বিষয়ে গত ৭ নভেম্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন, সরোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দুজন র‍্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছেন। তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য জানতে রিমান্ডের প্রয়োজন রয়েছে।

এছাড়াও, আরো একাধিক গণমাধ্যম সূত্রেও সরোয়ার হত্যার ঘটনায় উপরোল্লিখিত দুজনের গ্রেফতারের বিষয়ে জানা যায়। এ বিষয়ে অনলাইন সংবাদমাধ্যম জাগোনিউজ২৪ এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিনের বরাতে বলা হয়, এদের মধ্যে আলাউদ্দিন চট্টগ্রাম নগরীর ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সহ-সভাপতি ও হেলাল যুবদলকর্মী বলে জানা গেছে। এদিকে মূলধারার গণমাধ্যম ‘দ্য ডেইলি স্টার’ এর এক প্রতিবেদনে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজের বরাতে বলা হয়, ধারণা করা হচ্ছে, হামলার মূল টার্গেট বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ না বরং টার্গেট ছিলেন সরোয়ার বাবলা।

অর্থাৎ, কেবল এরশাদ উল্লাহকে গুলির ঘটনায় কোনো মামলা হওয়া বা কারোর আটকের কোনো তথ্য গণমাধ্যম বা নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাওয়া যায়নি। তবে উক্ত হামলার সম্ভাব্য মূল টার্গেট সরোয়ার বাবলা হত্যার ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে, তবে তাদের কারোর সাথে বা উক্ত ঘটনার সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবিতে প্রদর্শিত ব্যক্তির বা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।

সুতরাং, সম্প্রতি বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহকে গুলির ঘটনায় শিবিরকর্মী আটকের ছবি দাবিতে নাটোরে মাদ্রাসার ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মাদ্রাসা শিক্ষকের ছবি প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: