লালমনিরহাটে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে ৪ জন নিহত হওয়ার ভুয়া দাবি প্রচার

সম্প্রতি, ‘বিশাল এক ভয়াবহ দৃশ্য লালমনিরহাটে বিএনপি জামাত তুমুল সংঘর্ষে নিহত ৪ আহত অন্তত ২৩ বিস্তারিত কমেন্ট বক্সে’ শীর্ষক একটি দাবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। 

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক


রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে লালমনিরহাটে বিএনপি জামায়াতের কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। প্রকৃতপক্ষে, গত ২৫ জানুয়ারি নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে সংঘর্ষে ১১ জন আহত হয়, তবে সে ঘটনায় কেউ নিহত হয়নি।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ফেসবুকের উক্ত দাবির কতিপয় পোস্টে একটি ব্লগপোস্টের লিংক সূত্র হিসেবে দেওয়া হয়েছে। রিউমর স্ক্যানারের বিশ্লেষণে ‘jamunanews12.blogspot.com’ নামের ব্লগস্পটের বিনামূল্যের ডোমেইনের এই সাইটটি একটি ভুঁইফোঁড় সাইট বলে প্রতীয়মান হয়। সাইটে ‘লালমনিরহাটে বিএনপি–জামায়াত তুমুল সংঘর্ষ: নিহত ৪, আহত অন্তত ২৩’ শীর্ষক কথিত দাবির বিষয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে এবং এর প্রকাশকাল ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ উল্লেখ রয়েছে।

কথিত এই সংবাদে দাবি করা হয়, ‘লালমনিরহাটে বিএনপি–জামায়াত তুমুল সংঘর্ষ: নিহত ৪, আহত অন্তত ২৩ লালমনিরহাট লালমনিরহাট জেলায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষে অন্তত ৪ জন নিহত এবং কমপক্ষে ২৩ জন আহত হয়েছেন। সোমবার বিকেলে জেলা শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও সংলগ্ন এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্বঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (জামায়াত) নেতাকর্মীরা পৃথকভাবে মিছিল বের করে। একপর্যায়ে দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে কথাকাটাকাটির জেরে সংঘর্ষ বেধে যায়। উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও দুজনের মৃত্যু হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাদের লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় টহল জোরদার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। সংঘর্ষের ঘটনায় জেলায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন সংশ্লিষ্ট এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে। এ ঘটনায় নিহতদের পরিচয় নিশ্চিতের চেষ্টা চলছে। বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।’

উক্ত সংবাদে লালমনিরহাটে বিএনপি জামায়াতের সংঘর্ষের ভিডিও দাবিতে একটি ছবি যুক্ত করা হয়। ছবিতে থাকা লোগোর সূত্র ধরে সময় টিভির ইউটিউব চ্যানেলে গত ২৫ জানুয়ারি ‘বাঁশ নিয়ে সংঘর্ষে জড়ালো বিএনপি-জামায়াত’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওর থাম্বনেলের সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবির মিল রয়েছে। 

এ বিষয়ে আরো অনুসন্ধান করে দ্য ডেইলি স্টার বাংলার ওয়েবসাইটে গত ২৫ জানুয়ারি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সেদিন লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপির কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের দুই পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হয়।

সেসময় এবিষয়ে অন্যান্য গণমাধ্যমগুলোও সংবাদ (, , ) প্রচার করে।

উল্লেখ্য, ফ্রি ডোমেইনের ব্লগসাইট ব্যবহার করে অপতথ্য ছড়ানোর এই পদ্ধতি গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকেই ব্যবহার হয়ে আসছে। রিউমর স্ক্যানারের ইনভেস্টিগেশন ইউনিট এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যাতে বেরিয়ে এসেছে এসব সাইটের পেছনে কারা আছেন, কারাই বা এসব সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন এবং কাদের এসব অপতথ্যের শিকার বানানো হচ্ছে।

সুতরাং, সাম্প্রতিক সময়ে লালমনিরহাটের বিএনপি জামায়াতের সংঘর্ষে ৪ জন নিহত ও ২৩ জন আহত হওয়ার দাবিটি ভুয়া ও বানোয়াট।

তথ্যসূত্র

Share: