সাতক্ষীরায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে ৫ জন নিহত হওয়ার ভুয়া দাবি প্রচার

সম্প্রতি, ‘সাতক্ষীরায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে নিহত ৫, আহত অন্তত ১৩’ শীর্ষক একটি দাবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। 

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে এবং এখানে

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে সাতক্ষীরায় বিএনপি জামায়াতের কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। প্রকৃতপক্ষে, গত ৩ জানুয়ারি ভোলায় নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে সংঘর্ষে ৬ জন আহত হয়, তবে সে ঘটনায় কেউ নিহত হয়নি।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ফেসবুকের উক্ত দাবির কতিপয় পোস্টে একটি ব্লগপোস্টের লিংক সূত্র হিসেবে দেওয়া হয়েছে। রিউমর স্ক্যানারের বিশ্লেষণে ‘jamunanews12.blogspot.com’ নামের ব্লগস্পটের বিনামূল্যের ডোমেইনের এই সাইটটি একটি ভুঁইফোঁড় সাইট বলে প্রতীয়মান হয়। সাইটে ‘সাতক্ষীরায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে নিহত ৫, আহত অন্তত ১৩ জানা যায়’ শীর্ষক কথিত দাবির বিষয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে এবং এর প্রকাশকাল ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ উল্লেখ রয়েছে।

কথিত এই সংবাদে দাবি করা হয়, ‘সাতক্ষীরায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে নিহত ৫, আহত অন্তত ১৩ জানা যায়। সাতক্ষীরা, — সাতক্ষীরা জেলায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ৫ জন নিহত ও ১৩ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার বিকেলে জেলার একটি উপজেলায় পূর্বঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার জেরে এ সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে দুই দলের মিছিল কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান নিলে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রূপ নেয়। সংঘর্ষের সময় কয়েকটি দোকানপাট ও যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। স্থানীয় হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের দ্রুত সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও আশপাশের ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় পাঠানো হয়েছে। নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় নিশ্চিত করা গেলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো সব নাম প্রকাশ করেনি। পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা বিএনপির নেতারা অভিযোগ করেছেন, তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতের স্থানীয় নেতারা পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, তাদের কর্মীদের ওপর পূর্বপরিকল্পিত হামলা করা হয়েছে। উভয় পক্ষই দোষারোপে সরব থাকলেও সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।’

কথিত এই প্রতিবেদনে যমুনা টিভির একটি থাম্বনেইল ছবি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ছবিটির সূত্র ধরে মূল ভিডিওটি যমুনা টিভির ইউটিউব চ্যানেলে পাওয়া যায়। গত ৩ ফেব্রুয়ারি ‘ভোলায় প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ; আহত ৬’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওর থাম্বনেলের সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবির মিল রয়েছে।

এ বিষয়ে আরো অনুসন্ধান করে জাগোনিউজ২৪-এর ওয়েবসাইটে গত ৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ৩ ফেব্রুয়ারি ভোলা জেলার দৌলতখানে নির্বাচনি প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ফ্রি ডোমেইনের ব্লগসাইট ব্যবহার করে অপতথ্য ছড়ানোর এই পদ্ধতি গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকেই ব্যবহার হয়ে আসছে। রিউমর স্ক্যানারের ইনভেস্টিগেশন ইউনিট এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যাতে বেরিয়ে এসেছে এসব সাইটের পেছনে কারা আছেন, কারাই বা এসব সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন এবং কাদের এসব অপতথ্যের শিকার বানানো হচ্ছে।

সুতরাং, সাম্প্রতিক সময়ে সাতক্ষীরায় বিএনপি জামায়াতের সংঘর্ষে ৫ জন নিহত ও ১৩ জন আহত হওয়ার দাবিটি ভুয়া ও বানোয়াট।

তথ্যসূত্র

Share: