সম্প্রতি, ‘বাংলাদেশে রথযাত্রায় বোমা হামলার অভিযোগে আটক বিএনপি-জামাত নেতা’ শীর্ষক একটি দাবি ভারতীয় গণমাধ্যম ও একাধিক ভারতীয় অ্যাকাউন্ট থেকে ইন্টারনেটে বিভিন্ন প্লাটফর্মে প্রচার করা হয়েছে৷
উক্ত দাবিতে ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত পোস্ট দেখুন কলকাতা ২৪×৭ (ফেসবুক)।
উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
উক্ত দাবিতে এক্সে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)৷
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত দাবিটি সঠিক নয়। উল্লিখিত ঘটনাস্থলে কোনো বোমা হামলা হয়নি এবং বিএনপি-জামায়াতের কোনো কর্মীকে আটক করা হয়নি। প্রকৃতপক্ষে, নারায়ণগঞ্জের একটি মন্দিরে পূজা চলাকালে ভেতরে ঢুকে এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের বিশৃঙ্খলা করার অভিযোগের ঘটনাকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে৷
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে bdnews24 এর ফেসবুক পেজে গত ১৬ জুলাই ‘নারায়ণগঞ্জে মন্দিরে ঢুকে যুবকের বিশৃঙ্খলা, পরিবারের দাবি ‘মানসিক রোগী’’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ফটোকার্ডে সংযুক্ত ছবির সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত দৃশ্যের মিল রয়েছে।
উক্ত পোস্টটির মন্তব্যের ঘরে একই শিরোনামে bdnews24 এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

উক্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ১৬ জুলাই বেলা সাড়ে ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার অদূরে নয়ামাটির শ্রী শ্রী দরিদ্র ভাণ্ডার কালী মন্দিরে পূজা চলাকালে ভেতরে ঢুকে বিশৃঙ্খলা করার অভিযোগে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
মন্দিরের পুরোহিত কমল চক্রবর্তীর বরাতে উল্লেখ করা হয়, দুর্গাপূজার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দুপুরে কাঠামো পূজার আয়োজন করা হয়েছিল। এ সময় ওই যুবক মন্দিরে ঢুকে পূজার জন্য সাজানো সামগ্রী লাথি মেরে ফেলে দেয়। এ সময় মন্দিরের লোকজনকেও লাথি মারে সে। পরে উপস্থিত লোকজন তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। ঘটনার সময়ের সিসিটিভির ফুটেজেও এক যুবককে মন্দিরে ঢুকে উত্তেজিতভাবে পূজার সামগ্রীতে লাথি মারতে দেখা যায়। মন্দিরে থাকা লোকজন তাকে থামানোর চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তিও হয়।
আটক যুবকের নাম ইয়ামিন নাবিল। ২৬ বছর বয়সি ওই যুবক বন্দর উপজেলার হাফেজীবাগ এলাকার প্রয়াত নূর মোহাম্মদের ছেলে। তবে আটক যুবকের বড় ভাই অমিত হাসান বলেন, তার ভাই দীর্ঘদিন যাবৎ ‘সিজোফ্রেনিয়া’ নামে মানসিক রোগে আক্রান্ত। তার চিকিৎসা চলছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন ও অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, “আটক যুবক মন্দিরে প্রবেশ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজার স্বাভাবিক কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করে এবং পূজার আনুষঙ্গিক সরঞ্জামা- ফুল, ফল লাথি মেরে ফেলে দেয়। তাৎক্ষণিক পূজা কমিটির লোকজন তাকে আটক এবং মারধর করেন। শরীরে জখম অবস্থায় তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। বর্তমানে সে থানা হেফাজতে আছে। আটক ব্যক্তির বিষয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত আছে।”
উক্ত প্রতিবেদনে মন্দিরে কোনো প্রকার বোমা হামলার অভিযোগ কিংবা অভিযুক্ত ব্যক্তির বিএনপি বা জামায়াতে ইসলামীর সাথে সম্পৃক্ততার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে, এ বিষয়ে এখন টিভির ওয়েবসাইটে ‘নারায়ণগঞ্জে কালী মন্দিরে পূজার সামগ্রী ভাঙচুর, যুবক পুলিশ হেফাজতে’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনেও একই তথ্য পাওয়া যায়।
সুতরাং, রথযাত্রায় বোমা হামলার অভিযোগে বিএনপি-জামায়াত নেতা আটক দাবিতে মন্দিরে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ঘটনার দৃশ্য প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।


