সম্প্রতি, “কুষ্টিয়া বিএনপি নেতার বাড়িতে আ*গু*ন দিল জামাত শিবিরের নেতাকর্মীরা অভিযোগ” শীর্ষক ক্যাপশনে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি কুষ্টিয়ায় বিএনপি নেতার বাড়িতে জামায়াত-শিবিরের অগ্নিসংযোগের কোনো ঘটনার নয়। প্রকৃতপক্ষে, নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ভিডিওকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে সময় টিভির ইউটিউব চ্যানেলে গত ৪ ফেব্রুয়ারি ‘ফের উত্তপ্ত নরসিংদীর রায়পুরা, গু’লিতে কিশোর নি হ ত’’ শিরোনামে প্রচারিত ভিন্ন ফ্রেমের একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওর শুরু থেকে ৮ সেকেন্ড অংশের সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফুটেজের মিল রয়েছে।

এ বিষয়ে আরো অনুসন্ধান করে সমকালের ওয়েবসাইটে গত ৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সেদিন নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বে বাড়িঘরে আগুন ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় মুস্তাকিম মিয়া (১৩) নামে এক স্কুলছাত্র গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়। পুলিশ ও পরিবার সূত্রের বরাতে বলা হয়, গত কয়েক বছরে উপজেলা চরাঞ্চল সায়দাবাদ এলাকায় হানিফ মাস্টার ও এরশাদ মিয়া গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বের জেরে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় উভয়পক্ষে নারীসহ কমপক্ষে ৮ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। এবং বাড়িঘরে হামলা ও লুটেরও ঘটনা ঘটে। এরই জেরে সেদিন বালুচর গ্রামের এরশাদ গ্রুপের লোকজন দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সায়দাবাগ গ্রামের হানিফ মাস্টার গ্রুপের বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় হানিফ মাস্টারের লোকজনদের বাড়িঘরে আগুন দেওয়া ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়। এছাড়াও আগুনে ৪টি ঘর পুড়ে যায় ও কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। সায়দাবাদ গ্রামের লোকজন অভিযোগ করে, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা শুধু সায়দাবাদ গ্রামে বিভিন্ন সময় এসে অভিযান পরিচালনা করে। এতে গ্রামের কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। গ্রেফতার এড়াতে গ্রাম প্রায় পুরুষ শূন্য। আর এই সুযোগেই প্রতিপক্ষের লোকজন বালুচর গ্রাম থেকে এসে হামলা চালায়।
সেসময় এবিষয়ে অন্যান্য গণমাধ্যমগুলোও সংবাদ (১, ২, ৩) প্রচার করে।
অর্থাৎ, ভিডিওটি রাজনৈতিক কারণে কুষ্টিয়ায় অগ্নিসংযোগের নয়।
সুতরাং, কুষ্টিয়ায় বিএনপি নেতার বাড়িতে জামায়াত-শিবিরের অগ্নিসংযোগের এই দাবিটি মিথ্যা।


