মনোনয়ন না পেয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের ভাঙচুর-অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য দাবিতে এআই ভিডিও প্রচার 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ২৩৭ আসনে বিএনপির প্রার্থীর নাম গত ৩ নভেম্বর ঘোষণা করা হয়েছে। এতে মনোনয়ন না পাওয়া বিএনপির বিভিন্ন নেতাকর্মীর কর্মী-সমর্থকরা বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেছেন। এরই প্রেক্ষিতে অনলাইনে সম্প্রতি একটি ভিডিও প্রচার করে দাবি করা হয়েছে, ভিডিওটিতে বিএনপির নেতাকর্মীর মনোনয়ন না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রেন ও বাস আটকে ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য প্রদর্শিত হয়েছে।

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ হওয়া অবধি আলোচিত দাবিতে প্রচারিত উপরোল্লিখিত পোস্টটি ৫৫ লক্ষেরও অধিক বার দেখা হয়েছে, ১ লক্ষ ২৪ হাজারেরও অধিক পৃথক অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্টটিতে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে এবং ৬৩ হাজারেরও অধিক বার শেয়ার করা হয়েছে।

এরূপ দাবিতে টিকটকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ হওয়া অবধি আলোচিত দাবিতে প্রচারিত উপরোল্লিখিত পোস্টটি ১ লক্ষ ৫০ হাজারেরও অধিক বার দেখা হয়েছে এবং ১০ হাজারেরও অধিক পৃথক অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্টটিতে লাইক দেওয়া হয়েছে।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি বিএনপির নেতাকর্মীর মনোনয়ন না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রেন ও বাস আটকে ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ডের আসল দৃশ্যের নয় বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি এই ভিডিওকে আসল দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

ভিডিওটির বিষয়ে অনুসন্ধানে কোনো বিশ্বস্ত গণমাধ্যম বা নির্ভরযোগ্য সূত্রে এর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। প্রচারিত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করলে ভয়েস, ট্রেন ও বাসের অবস্থান, আগুনের মুভমেন্ট, মানুষের মুভমেন্ট ও পারিপার্শ্বিক অবস্থাতে অস্বাভাবিকতা পরিলক্ষিত হয়, যা সাধারণত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি কনটেন্টে পরিলক্ষিত হয়।

এছাড়া, ভিডিওটি পর্যবেক্ষণে ভিডিওটির নিচের ডান কোণে ‘Veo’ নামের একটি জলছাপ ও এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্টের লেবেল দেখতে পাওয়া যায়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ‘Veo’ গুগলের একটি উন্নত এআই টুল, যা টেক্সট প্রম্পট থেকে ৮ সেকেন্ডের বাস্তবসম্মত ভিডিও তৈরি করতে সক্ষম। এই ভিডিওটির দৈর্ঘ্য ১৬ সেকেন্ড ও ৮ সেকেন্ড পর দৃশ্য পরিবর্তন হতে দেখা যায়। অর্থাৎ, ‘Veo’ এর সাহায্যে তৈরি ২টি ভিডিওর সমন্বয়ে এই ভিডিও তৈরি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অধিকতর নিশ্চিত হতে এআই ও ডিপফেক কনটেন্ট শনাক্তকারী প্ল্যাটফর্ম ‘হাইভ মডারেশন’ এ আলোচিত ভিডিওটি বিশ্লেষণ করলে এটি এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট হওয়ার সম্ভাবনা সিংহভাগ বলে জানা যায়।

এ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে প্রচারিত ভিডিওটি এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, আলোচিত ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও হলেও মনোনয়ন না পাওয়া নানা বিএনপি নেতাকর্মীর কর্মী-সমর্থকরা বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করার তথ্য গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়।

সুতরাং, এআই দিয়ে তৈরি ভিডিওকে বিএনপির নেতাকর্মীর মনোনয়ন না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রেন ও বাস আটকে ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ডের আসল দৃশ্য দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: