ভোট দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে বিএনপি কিংবা জামায়াত কর্তৃক নির্যাতনের নয়, ভিডিওটি এক প্রতারককে জনতা কর্তৃক আটকের দৃশ্যের

সম্প্রতি ‘ধানের শীষে ভোট দিবে না বলায় যুবকের নাক প্লাস দিয়ে চেপে ধরেছেন বিএনপি নেতা বাশার!!’ ক্যাপশনে এটি একটি ভিডিও ইন্টারনেটে বিভিন্ন প্লাটফর্মে প্রচার করা হয়েছে। অন্যদিকে, একই ভিডিও ‘দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিবে না বলায় যুবকের নাক প্লাস দিয়ে চেপে ধরেছেন জামায়াত নেতা বাশার!!’ ক্যাপশনেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

বিএনপি নেতা অভিযোগে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)৷

উক্ত দাবিতে ইউটিউবে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

উক্ত দাবিতে ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

এবং জামায়াত নেতা অভিযোগে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)৷

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ভিডিওটির সাথে প্রচারিত দাবির কোনো সম্পর্ক নেই। প্রকৃতপক্ষে, বগুড়ায় প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎকারী এক ব্যক্তির ধরা পড়ার ভিডিওকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে৷ 

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে Nilima Akter নামক ফেসবুক প্রোফাইলে গত ০৪ নভেম্বর প্রকাশিত আলোচিত ভিডিওটির অনুরূপ একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়।

উক্ত ভিডিওটির ক্যাপশন থেকে জানা যায়, বগুড়া জেলার শেরপুরের মির্জাপুর ইউনিয়নের সাগরপুর এলাকা থেকে মোতালেব ওরফে তালেব নামক এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। ওই ব্যক্তি বিদ্যুৎ বিল কম করানো, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, গর্ভবতী ও প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা করে দেওয়ার নামে মানুষের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে প্রতারণা করে আসছিল।

উল্লেখিত তথ্যাবলীর সূত্র ধরে Abdul Wadut নামে একজন সংবাদকর্মীর ফেসবুক প্রোফাইলে গত ৩০ অক্টোবর প্রকাশিত একই ধরণের তথ্য সংযুক্ত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়।

উক্ত ভিডিওটির বিস্তারিত বিবরণী থেকে জানা যায়, বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের সাগরপুর গ্রাম থেকে মোঃ আবু তালেব ওরফে মোতালেব নামক ব্যক্তিকে এলাকাবাসী আটক করে। ওই ব্যক্তি বিদ্যুৎ বিল কমানো ও বিভিন্ন ভাতার ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন এলাকার একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করে৷ সেদিনও ওই ব্যক্তি একই কাজ করার সময়ে স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ করা হলে পার্শ্ববর্তী এলাকায় থাকা বিদ্যুৎ অফিসের দুজন লাইনম্যান এসে এলাকাবাসীর সহায়তায় ওই প্রতারককে আটক করে। ওই সময়ে উপস্থিত এলাকাবাসীর মধ্য থেকে একজন ব্যক্তি অভিযুক্ত আবু তালেবের নাক প্লায়ার্স দিয়ে চেয়ে ধরে, যা পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়।

পরবর্তীতে, একই ফেসবুক প্রোফাইলে গত ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত একই ঘটনার আরেকটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়।

উক্ত ভিডিওতে অভিযুক্ত মোঃ আবু তালেবের বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার ৮নং সুঘাট ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থীতার একটি পোস্টার যুক্ত করা হয়।

সুতরাং, বিএনপি কিংবা জামায়াতের পক্ষে ভোট দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় উক্ত দলগুলোর কর্মী প্লায়ার্স দ্বারা যুবকের নাক চেপে ধরার দৃশ্য দাবিতে এক প্রতারক ব্যক্তিকে এলাকাবাসী কর্তৃক আটকের ঘটনার ভিডিও প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: