‘তুরাগে হত্যার শিকার’ ছাত্রলীগ কর্মীর লাশ উদ্ধার দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি ভিন্ন ঘটনার 

সম্প্রতি, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি ঘিরে তুরাগ নদ থেকে একাধিক লাশ উদ্ধারের ঘটনার পর ‘ঢাকার আশুলিয়ায় বিএনপি”র সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত ৭ ছাত্রলীগ কর্মীর মধ্যে একজন #দিগন্তর লা/শ আজ উদ্ধার হয়েছে নরসিংদীর মাধবদী থেকে! এই নিয়ে উদ্ধার করা হলো পাঁচটি মরা দেহ আরো দুইজন নিখোঁজ রয়েছে!’ শিরোনামে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি নরসিংদী মাধবদীতে কোনো ছাত্রলীগ কর্মীর লাশ উদ্ধারের ঘটনার নয়। প্রকৃতপক্ষে, গত ২৯ জুন পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করা এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধারের ভিডিওকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে সাংবাদিক শাওন আহমেদ সাদের ফেসবুক পেজে গত ২৯ জুন ‘LIVE >> 🔴 LIVE >> মাধবদীতে রাস্তার পাশে পড়ে আছে এক ব্যক্তির মরদেহ, ঘটনাস্থলে জনতার ভিড় লাশের ছবি কমেন্ট বক্সে’ শিরোনামে প্রচারিত একটি লাইভ ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত লাইভ ভিডিওর ১ মিনিট ১৩ সেকেন্ড অংশ থেকে ২ মিনিট ১৬ সেকেন্ড অংশের সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফুটেজের মিল রয়েছে।

উক্ত ফেসবুক পেজে এ ঘটনার আরও একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওটির তথ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তির নাম দিগন্ত।

এ বিষয়ে আরো অনুসন্ধান করে ইত্তেফাকের ওয়েবসাইটে গত ২৯ জুন প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সেদিন নরসিংদীর সদর উপজেলার মাধবদীতে সড়কের পাশে থাকা ময়লার স্তূপ থেকে দিগন্ত (২০) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত দিগন্ত শেখেরচর এলাকার শফিকুর রহমানের ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে মাধবদীর বিরামপুরে ভাড়া বাসায় থাকতো। পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের বরাতে বলা হয়, গত ২৮ জুন বিকেলে মোবাইলে কারো সঙ্গে কথা বলে বাসা থেকে বের হয় দিগন্ত, পরে আর বাড়ি ফেরেনি সে। রাতে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। সকালে নরসিংদী- মদনগঞ্জ সড়কের পাশে খরমর্দী এলাকায় ময়লার স্তূপে একটি মরদেহ পড়ে থাকার খবরে শনাক্ত করেন স্বজনরা। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

পরবর্তীতে, একই ঘটনায় প্রকাশিত দৈনিক ইনকিলাবের একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্যমতে নিহত দিগন্ত পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করতেন।

সেসময় এবিষয়ে অন্যান্য গণমাধ্যমগুলোতেও সংবাদ (,, ) প্রকাশ করা হয়।

সুতরাং, গত ২৯ জুন মাসে পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করা এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধারের ভিডিওকে নরসিংদীর মাধবদীতে ‘তুরাগে হত্যার শিকার’ ছাত্রলীগ কর্মীর লাশ দাবিতে প্রচার করা হয়েছে, যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: