ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছাত্রলীগ সদস্যকে বিএনপি-জামায়াত হত্যা করেছে দাবিতে ভারতের সড়ক দুর্ঘটনার ভিডিও প্রচার

সম্প্রতি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা ছাত্রলীগের রাকিব বিশ্বাস নামের এক সদস্যকে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা হত্যা করেছে দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
একই দাবিটি উক্ত ভিডিওর একটি স্ক্রিনশট ব্যবহার করে ফটোকার্ড আকারেও ফেসবুকে প্রচার করতে দেখা যায়। প্রচারিত ফটোকার্ড পোস্টটি দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রচারিত এমন ভিডিও পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত একই ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি বাংলাদেশের কোনো ঘটনার নয়। এছাড়াও ভিডিওতে দেখতে পাওয়া ব্যক্তি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কোনো উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য নন। প্রকৃতপক্ষে, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের বিশালগড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যুর ঘটনার ভিডিওকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
আলোচিত দাবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে গণমাধ্যম কিংবা অন্যকোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে এমন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাকিব বিশ্বাস নামের কোনো উপজেলা ছাত্রলীগ কর্মীকে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের হত্যা করার তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে উক্ত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটির বিষয়ে অনুসন্ধানে Tripura 2.0 নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একই ভিডিওটি প্রচারিত হতে দেখা যায়।

ভিডিওটির শিরোনামে বলা হয়, ভিডিও ফুটেজ বিশালগড় নামক এলাকায় সড়ক দুঘর্টনায় দুই যুবকের গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনার। এছাড়াও ভিডিওটির এক পাশে মাটিতে পড়ে থাকা যুবকের জাতীয় পরিচয়পত্রের একটি ছবিও যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। ছবিতে দেখতে পাওয়া পরিচয়পত্রটি পর্যালোচনা করে বোঝা যায় এটি ভারতের জাতীয় পরিচয়পত্র। পরিচয়পত্রে লক্ষ্য করা যায়, আহত যুবকের নাম রাকিব হোসেন।
প্রাপ্ত তথ্যের সূত্র ধরে অনুসন্ধানে পরবর্তীতে Bishalgarh TV এবং PB24 News নামের ভারতের ত্রিপুরার দুটি স্থানীয় গণমাধ্যমের ফেসবুক পেজে একই ঘটনার ভিডিও ও প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদনগুলো থেকে জানা যায়, আলোচিত ভিডিওটি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের বিশালগড় শহরের একটি সড়ক দুঘর্টনার। রাকিব হোসেন নামের এক যুবক দ্রুত গতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় চন্দন দাস নামের এক সাইকেল আরোহীর সাথে সংঘর্ষ হয়। যাতে উভয়-ই গুরুতর আহত হয়। তবে তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল চালক রাকিব হোসেন মারা যান বলেও প্রতিবেদনগুলো থেকে জানা যায়।
অর্থাৎ, এ থেকে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে, আলোচিত ভিডিওটি বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনার নয়। এছাড়াও শিরোনামে উল্লিখিত রাকিব নামের যুবক ছাত্রলীগের কোনো সদস্য নন। মূলত, ত্রিপুরার এই সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত রাকিব হোসেনের নামটি পরিবর্তন করে রাকিব বিশ্বাস উল্লেখ করে ভুয়া এই দাবিটি প্রচার করা হচ্ছে।
সুতরাং, ভারতের সড়ক দুর্ঘটনার ভিডিওকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা ছাত্রলীগের রাকিব বিশ্বাস নামের এক সদস্যকে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা হত্যা করেছে দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

