সম্প্রতি ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এলাকাবাসীর দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে এক পক্ষ আরেক পক্ষকে সাউন্ড স্পিকার ভাড়া করে গান শোনাচ্ছে।’ একটি ভিডিও ইন্টারনেটে বিভিন্ন প্লাটফর্মে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)৷
ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ইউটিউবে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কোনো ঘটনার নয়। প্রকৃতপক্ষে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের দুটি ইটভাটার স্বত্বাধিকারীদের আয়োজিত অনুষ্ঠানের দৃশ্যকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে Robiul Funny নামক ইউটিউব চ্যানেলে গত ১৭ জানুয়ারি প্রচারিত আলোচিত ভিডিওটির অনুরূপ একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়।
উক্ত ভিডিওটির শিরোনামে উল্লেখ করা হয়, এটি ভারতের মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ার মধ্যে একটি প্রতিযোগিতার দৃশ্য।
উক্ত ইউটিউব চ্যানেলটি পর্যবেক্ষণ করে এতে একই ঘটনার বেশ কয়েকটি শর্টস ভিডিওর সন্ধান পাওয়া যায়। যার মধ্যে একটির শিরোনামে ‘পিকনিক VS পিকনিক’ এবং অপর একটি ভিডিওতে ‘পিকনিক 2025 সাল’ উল্লেখ করা হয়েছে। ‘পিকনিক 2025 সাল’ শীর্ষক ভিডিওটি পর্যালোচনা করে সাউন্ড সিস্টেমের একটি বক্সে ‘সুপার সাউন্ড’ লেখা দেখতে পাওয়া যায়। এছাড়াও এটিতে ‘নাটনা, পূর্বপাড়া এবং নদীয়া’ নামগুলো দেখা যায়। পাশাপাশি ‘9775105686’ শীর্ষক একটি মোবাইল নাম্বার দেখতে পাওয়া যায়।

উক্ত তথ্যাবলীর সূত্র ধরে Sahin Sekh নামক একটি ভারতীয় ফেসবুক প্রোফাইলে ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর প্রচারিত একটি পোস্ট খুঁজে পাওয়া যায়।

উক্ত পোস্টটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এটি সুপার সাউন্ড নামক সাউন্ড সিস্টেম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের একটি বিজ্ঞাপনধর্মী পোস্ট। এতে ব্যবহৃত ছবিগুলো পর্যালোচনা করে একই তথ্য সম্বলিত সাউন্ড সিস্টেম বক্সও দেখতে পাওয়া।
পরবর্তীতে, পোস্টটিতে ব্যবহৃত ভারতীয় মোবাইল নাম্বারে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে উক্ত নাম্বার ব্যবহারকারী রিউমর স্ক্যানারকে জানান তার নাম শাহীন শেখ। তিনি ‘সুপার সাউন্ড’- এ সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করেন। আলোচিত ভিডিওটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, ভিডিওটি পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের গোবিন্দপুরের মুক্তারপুর এলাকার। মূলত, পাশাপাশি অবস্থিত দুটি ইটভাটার স্বত্বাধীকারী পিকনিকের আয়োজন করেন। পিকনিককে কেন্দ্র করেই তারা সাউন্ডবক্স এবং মাইকের এমন আয়োজন করেছিলেন।
অর্থাৎ, প্রচারিত ভিডিওর ঘটনাটি বাংলাদেশের নয়।
উল্লেখ্য, পূর্বেও একই ভিডিওটি ব্যবহার করে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী এলাকা সম্পর্কিত একটি ভুয়া দাবি প্রচার করা হয়েছিলো। তখন এ বিষয়ে প্রকাশিত রিউমর স্ক্যানারের ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন দেখুন এখানে।
সুতরাং, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে সাউন্ড সিস্টেম ভাড়া করে গান বাজানোর দৃশ্য দাবিতে ভারতের ভিডিও প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Robiul Funny – YouTube Video
- Robiul Funny – YouTube Video (1, 2)
- Sahin Sekh – Facebook Post


