সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংঘর্ষস্থলের একটি ছবি প্রচার করে দাবি করা হয়েছে, ‘চাঁদা না পেয়ে একাধিক বাস ভাঙচুর, জামাত–শিবিরের সম্পৃক্ততার অভিযোগ বাস মালিক সমিতির।’

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
এরূপ দাবিতে ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে।
এরূপ দাবিতে এক্সে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ছবিটি চাঁদা না পেয়ে জামায়াত-শিবির কর্মীর একাধিক বাস ভাঙচুরের দৃশ্যের নয়। প্রকৃতপক্ষে ছবিটি গত ১৫ নভেম্বরে বরিশালে হাফভাড়া না নেওয়াকে কেন্দ্র করে বাস শ্রমিকদের সঙ্গে ব্রজমোহন কলেজের (বিএম) শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে বাস ভাঙচুরের ঘটনার। এতে চাঁদা বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার দাবির সপক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি।
আলোচিত ছবির বিষয়ে অনুসন্ধানে সংবাদমাধ্যম ‘সময়ের আলো’র ওয়েবসাইটে গত ১৫ নভেম্বরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে একটি ছবিরও সংযুক্তি পাওয়া যায় যার সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবির তুলনা করলে মিল পাওয়া যায়৷ প্রতিবেদনে ছবিটি ‘সময়ের আলো’র ধারণকৃত বলে উল্লেখ করা হয় এবং ছবির বর্ণনায় বলা হয়, ‘শনিবার (১৫ নভেম্বর) রাতে নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে দুইপক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।’

এ ঘটনার বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৫ নভেম্বর রাত ৭টার দিকে বরিশাল কেন্দ্রীয় নথুল্লাবাদ বাসটার্মিনালে হাফভাড়া না নেওয়াকে কেন্দ্র করে বাস শ্রমিকদের সঙ্গে ব্রজমোহন কলেজের (বিএম) শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয় এবং এতে অর্ধশতাধিক বাস ভাঙচুর করা হয়৷ এছাড়াও, প্রতিবেদনে শ্রমিক নেতা আরজু মৃধাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘শিক্ষার্থীরা কলেজ বন্ধের দিনও হাফভাড়া দেওয়া নিয়ে এক বাস শ্রমিকের সঙ্গে বিরোধ হয়। এরপর বিএম কলেজের কয়েক শতাধিক শিক্ষার্থী এসে নথুল্লাবাদ স্টান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা অর্ধশতাধিক বাস ভাঙচুর করে। এ সময় শ্রমিকদের বেপরোয়াভাবে মারধর করে গুরুতর হামলা করে।’ পাশাপাশি প্রতিবেদনে বিএম কলেজের একাধিক শিক্ষার্থীর বরাতে বলা হয়, ‘হাফভাড়া আমাদের অধিকার। আজ (১৫ নভেম্বর) মুলাদী থেকে বরিশাল নগরীতে আসার পথে এক শিক্ষার্থীকে হাফভাড়া দিতে চাইলে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে বাস শ্রমিকরা। খবর পেয়ে আমরা (শিক্ষার্থীরা) নথুল্লাবাদ স্টান্ডে জড়ো হয়ে শ্রমিকদের বিচার দাবি জানাই।’
তবে প্রতিবেদনে চাঁদাবাজি বা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কোনো সম্পৃক্ততার উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
এছাড়াও অনুসন্ধানে এ বিষয়ে আরো একাধিক গণমাধ্যমে আলোচিত ছবির সংযুক্তিসহ গত ১৫ নভেম্বরে সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশ হতে দেখা যায়। সেসব প্রতিবেদনেও আলোচিত ঘটনা প্রকৃতপক্ষে হাফ ভাড়া না নেওয়াকে কেন্দ্র করে শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনা বলে উল্লেখ করা হয়।
সুতরাং, গত ১৫ নভেম্বরে বরিশালে হাফভাড়া না নেওয়াকে কেন্দ্র করে বাস শ্রমিকদের সঙ্গে বিএম কলেজের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে বাস ভাঙচুরের ঘটনার দৃশ্যকে চাঁদা না পেয়ে জামায়াত-শিবির কর্মীর একাধিক বাস ভাঙচুরের ছবি দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর।
তথ্যসূত্র
- Shomoyer Alo – হাফ ভাড়া না নেওয়ায় দ্বন্দ্ব, অর্ধশতাধিক বাস ভাঙচুর
- Channel I – হাফ ভাড়া নিয়ে শ্রমিক-শিক্ষার্থী সংঘর্ষ, অর্ধশতাধিক বাস ভাঙচুর
- Rumor Scanner’s analysis


