সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ঘুরতে নিয়ে ধর্ষণ, মুমূর্ষু অবস্থায় বাড়ির সামনে ফেলে পালাল সহপাঠী ছাত্রদলের নেতা’ শীর্ষক দাবিতে গণমাধ্যম চ্যানেল২৪’র ডিজাইন সংবলিত একটি ফটোকার্ড প্রচার হতে দেখে রিউমর স্ক্যানার।

উক্ত দাবিতে টিকটকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘ঘুরতে নিয়ে ধর্ষণ, মুমূর্ষু অবস্থায় বাড়ির সামনে ফেলে পালাল সহপাঠী ছাত্রদলের নেতা’ এরূপ দাবিতে চ্যানেল২৪ কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি। বরং, চ্যানেল২৪’র ভিন্ন একটি ফটোকার্ড ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনার মাধ্যমে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে এতে গণমাধ্যম চ্যানেল২৪’র লোগো এবং ফটোকার্ডটি প্রচারের তারিখ হিসেবে ‘২৩ মার্চ, ২০২৬’ উল্লেখ পাওয়া যায়। এরই সূত্র ধরে সংবাদমাধ্যমটির ফেসবুক পেজ এবং ওয়েবসাইট পর্যবেক্ষণ করে গত ২৩ মার্চ কিংবা অন্য কোনো তারিখে প্রকাশিত এমন কোনো ফটোকার্ড পাওয়া যায়নি।
তবে, চ্যানেল২৪’র ফেসবুক পেজে গত ২৩ মার্চ একই ছবি সংযুক্ত ‘ঘুরতে নিয়ে ধর্ষণ, মুমূর্ষু অবস্থায় বাড়ির সামনে ফেলে পালাল সহপাঠী’ শিরোনামে প্রচারিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়।

উক্ত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, আলোচিত ফটোকার্ডের সাথে উক্ত ফটোকার্ডের শিরোনাম ব্যতীত বাকি সকল উপাদানের মিল রয়েছে। চ্যানেল২৪’র মূল ফটোকার্ডটিতে ‘ঘুরতে নিয়ে ধর্ষণ, মুমূর্ষু অবস্থায় বাড়ির সামনে ফেলে পালাল সহপাঠী’ শীর্ষক বাক্য থাকলেও প্রচারিত ফটোকার্ডটিতে এর পরিবর্তে ‘ঘুরতে নিয়ে ধর্ষণ, মুমূর্ষু অবস্থায় বাড়ির সামনে ফেলে পালাল সহপাঠী ছাত্রদলের নেতা’ শীর্ষক বাক্য লেখা হয়েছে।
অর্থাৎ, চ্যানেল২৪’র এই ফটোকার্ডটি সম্পাদনা করেই আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
মূল ফটোকার্ড সংবলিত চ্যানেল২৪’র পোস্টের মন্তব্যের ঘরে পাওয়া গণমাধ্যমটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে এক কলেজছাত্রীকে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের পর মুমূর্ষু অবস্থায় বাড়ির সামনে ফেলে রেখে পালানোর অভিযোগ উঠেছে তার সহপাঠীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সহপাঠী তুহিন হোসেন ওরফে সালমানকে (২০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৩ মার্চ) তাকে চাঁদপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। রোববার (২২ মার্চ) উপজেলার গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তার তুহিন হোসেন ওরফে সালমান একটি কলেজের শিক্ষার্থী। তিনি উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের হামছাপুর গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে। তার রাজনৈতিক পরিচয় গণমাধ্যম সূত্রে উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
সুতরাং, ‘ঘুরতে নিয়ে ধর্ষণ, মুমূর্ষু অবস্থায় বাড়ির সামনে ফেলে পালাল সহপাঠী ছাত্রদলের নেতা’ শীর্ষক দাবিতে চ্যানেল২৪’র নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি সম্পাদিত।
তথ্যসূত্র
- Channel 24- Facebook Post


