চরমোনাই সরে যাওয়ায় শতাধিক আসনে পরাজয়ের শঙ্কা জামায়াতের শীর্ষক দাবিতে একাধিক গণমাধ্যমের ভুয়া ফটোকার্ড প্রচার

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ ১১টি রাজনৈতিক দলের ‘১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ ব্যানারে জোটবদ্ধভাবে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। আসন সমঝোতা নিয়ে কয়েক দিনের টানাপোড়েনের পর গত ১৬ জানুয়ারি এই জোট ত্যাগ করে এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দেয় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এরই প্রেক্ষিতে, বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে ‘১৭৫টি কিংবা শতাধিক আসনে জামায়াতের পরাজয়ের শঙ্কা’ দাবি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আটটি গণমাধ্যমের লোগো ও ডিজাইন সংবলিত ফটোকার্ড প্রচার হতে দেখেছে রিউমর স্ক্যানার।
প্রথম আলো ও বার্তা২৪ এর ডিজাইন সংবলিত ফটোকার্ডে দাবি করা হয়েছে, “চরমোনাই সরে যাওয়ায় ১৭৫ টি আসনে জামায়াতের পরাজয়ের শঙ্কা; ধারণা বিশ্লেষকদের”।
জনকণ্ঠ ও ইনকিলাবের ডিজাইন সংবলিত ফটোকার্ডে দাবি করা হয়েছে, “জোট ভঙ্গ, শতাধিক আসনে পরাজয়ের শঙ্কা জামায়াতের”।
যুগান্তর ও বার্তা বাজারের ডিজাইন সংবলিত ফটোকার্ডে দাবি করা হয়েছে, “চরমোনাই সরে যাওয়ায় শতাধিক আসনে জামায়াতের পরাজয়ের শঙ্কা; ধারণা বিশ্লেষকদের”।
আমার দেশ ও যমুনা টেলিভিশনের ডিজাইন সংবলিত ফটোকার্ডে দাবি করা হয়েছে, “চরমোনাইয়ের সিদ্ধান্তে জামায়াতের ১৭৫ আসনে পরাজয়ের ঝুঁকি দেখছেন বিশ্লেষকরা”।

উলিখিত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, নির্বাচনী জোট থেকে চরমোনাই সরে যাওয়ায় ১৭৫ আসনে পরাজয়ের শঙ্কা জামায়াতের- শীর্ষক দাবিতে
উল্লিখিত গণমাধ্যমগুলো এরূপ কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ প্রচার করেনি৷ প্রকৃতপক্ষে, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনার মাধ্যমে এসব গণমাধ্যমের প্রচলিত ফটোকার্ডের ডিজাইনে আদলে আলোচিত ফটোকার্ডগুলো তৈরি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পৃথকভাবে যাচাই করেছে রিউমর স্ক্যানার।
প্রথম আলোর ফটোকার্ড যাচাই
আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ফটোকার্ডটিতে প্রথম আলোর লোগো রয়েছে এবং এটি প্রকাশের তারিখ হিসেবে ‘১৬ জানুয়ারি ২০২৬’ উল্লেখ করা হয়েছে।
উক্ত তথ্যের সূত্র ধরে প্রথম আলোর ফেসবুক পেজ পর্যবেক্ষণ করে আলোচিত দাবি সংবলিত কোনো ফটোকার্ড বা তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, প্রথম আলোর ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলেও উক্ত দাবি সমর্থিত কোনো সংবাদ বা তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। বরং, প্রথম আলোর ফেসবুক পেজে গত ১৬ জানুয়ারি প্রকাশিত একটি পোস্টে আলোচিত ফটোকার্ডটির ছবি সংযুক্ত করে উল্লেখ করা হয় যে প্রথম আলোর নামে ছড়ানো উক্ত ছবি ও তথ্য ভুয়া। এটি তাদের তৈরি নয়।
অর্থাৎ, প্রথম আলোর লোগো ও ডিজাইন নকল করে আলোচিত দাবি সংবলিত এই ভুয়া ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
যুগান্তরের ফটোকার্ড যাচাই
ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এটিতে যুগান্তরের লোগো রয়েছে এবং এটি প্রকাশের তারিখ হিসেবে ‘১৬ জানুয়ারি ২০২৬’ উল্লেখ করা হয়েছে।
উক্ত তথ্যের সূত্র ধরে যুগান্তরের ফেসবুক পেজে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে আলোচিত শিরোনাম সংবলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, যুগান্তরের ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলেও উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাছাড়া, যুগান্তরের প্রচলিত ফটোকার্ডের শিরোনামের ফন্টের সাথে আলোচিত ফটোকার্ডটির শিরোনামের ফন্টের পার্থক্যও লক্ষ্য করা যায়।

অর্থাৎ, যুগান্তরের লোগো ও ডিজাইন নকল করে আলোচিত দাবি সংবলিত ভুয়া ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
ইনকিলাবের ফটোকার্ড যাচাই
ফটোকার্ডটিতে থাকা ইনকিলাবের লোগোর সূত্র ধরে গণমাধ্যমটির ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেল পর্যবেক্ষণ করে আলোচিত দাবি সমর্থিত কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদের অস্তিত্ব মেলেনি। এছাড়া, ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে এর শিরোনামে ব্যবহৃত ফন্টের সাথে ইনকিলাবের প্রচলিত ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ফন্টের অমিল পরিলক্ষিত হয়।

অর্থাৎ, ইনকিলাবের লোগো ও ডিজাইন নকল করে আলোচিত দাবি সংবলিত ভুয়া ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
জনকণ্ঠের ফটোকার্ড যাচাই
এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ফটোকার্ডটিতে জনকণ্ঠের লোগো রয়েছে এবং এটি প্রকাশের তারিখ ‘১৬ জানুয়ারি ২০২৬’ উল্লেখ করা হয়েছে।
উক্ত তথ্যাবলীর সূত্র ধরে জনকণ্ঠের ফেসবুক পেজ পর্যবেক্ষণ করে উক্ত তারিখে আলোচিত শিরোনাম সংবলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, জনকণ্ঠের ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলেও উক্ত দাবি সমর্থিত কোনো সংবাদের অস্তিত্ব মেলেনি। তাছাড়া, জনকণ্ঠের প্রচলিত ফটোকার্ডের শিরোনামের ফন্টের সাথে আলোচিত ফটোকার্ডটির শিরোনামের ফন্টের পার্থক্যও লক্ষ্য করা যায়।

অর্থাৎ, জনকণ্ঠের লোগো ও ডিজাইন নকল করে আলোচিত দাবি সংবলিত ভুয়া ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
আমার দেশের ফটোকার্ড যাচাই
ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ফটোকার্ডটিতে আমার দেশের লোগো রয়েছে এবং এটি প্রকাশের তারিখ ‘১৬ জানুয়ারি, ২০২৬’ উল্লেখ করা হয়েছে।
উক্ত তথ্যাবলীর সূত্র ধরে আমার দেশের ফেসবুক পেজ পর্যবেক্ষণ করে উক্ত তারিখে আলোচিত শিরোনাম সংবলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, আমার দেশের ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলেও উক্ত দাবি সমর্থিত কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাছাড়া, আমার দেশের প্রচলিত ফটোকার্ডের শিরোনামের ফন্টের সাথে আলোচিত ফটোকার্ডটির শিরোনামের ফন্টের পার্থক্যও লক্ষ্য করা যায়।

অর্থাৎ, আমার দেশের লোগো ও ডিজাইন নকল করে আলোচিত দাবি সংবলিত ভুয়া ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
যমুনা টিভির ফটোকার্ড যাচাই
ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ফটোকার্ডটিতে যমুনা টিভির লোগো ব্যবহার করা হয়েছে এবং এটি প্রকাশের তারিখ হিসেবে ‘১৬ জানুয়ারি ২০২৬’ উল্লেখ করা হয়েছে।
উক্ত তথ্যাবলীর সূত্র ধরে যমুনা টিভির ফেসবুক পেজ
পর্যবেক্ষণ করে করে উল্লিখিত তারিখে উক্ত শিরোনাম সংবলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, যমুনা টিভির ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলেও উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো সংবাদের অস্তিত্ব মেলেনি। তাছাড়া, যমুনা টিভির প্রচলিত ফটোকার্ডের শিরোনামের ফন্টের সাথে আলোচিত ফটোকার্ডটির ফন্টের পার্থক্যও লক্ষ্য করা যায়।

অর্থাৎ, যমুনা টিভির লোগো ও ডিজাইন নকল করে আলোচিত দাবি সংবলিত ভুয়া ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
বার্তা বাজারের ফটোকার্ড যাচাই
এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ফটোকার্ডটিতে বার্তা বাজারের লোগো রয়েছে এবং এটি প্রকাশের তারিখ ‘১৬ জানুয়ারি ২০২৬’ উল্লেখ করা হয়েছে।
উক্ত তথ্যাবলীর সূত্র ধরে বার্তা বাজারের ফেসবুক পেজ পর্যবেক্ষণ করে উক্ত তারিখে আলোচিত শিরোনাম সংবলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, বার্তা বাজারের ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলেও উক্ত দাবি সমর্থিত কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাছাড়া, বার্তা বাজারের প্রচলিত ফটোকার্ডের শিরোনামের ফন্টের সাথে আলোচিত ফটোকার্ডটির শিরোনামের ফন্টের পার্থক্যও লক্ষ্য করা যায়।

অর্থাৎ, বার্তা বাজারের লোগো ও ডিজাইন নকল করে আলোচিত দাবি সংবলিত ভুয়া ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
বার্তা২৪ এর ফটোকার্ড যাচাই
ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এতে বার্তা২৪ এর লোগো এবং এটি প্রকাশের তারিখ হিসেবে ‘১৬ জানুয়ারি, ২০২৬’ উল্লেখ রয়েছে।
উল্লিখিত তথ্যাবলীর সূত্র ধরে অনুসন্ধানে বার্তা২৪ এর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ পর্যবেক্ষণ করে আলোচিত দাবি সংবলিত কোনো ফটোকার্ড পাওয়া যায়নি। এছাড়া, বার্তা২৪ এর ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলেও আলোচিত দাবি সমর্থিত কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি। তাছাড়া, বার্তা২৪ এর প্রচলিত ফটোকার্ডের শিরোনামের ফন্টের সাথে আলোচিত ফটোকার্ডটির শিরোনামের ফন্টের পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।

অর্থাৎ, বার্তা২৪ এর লোগো ও ডিজাইন নকল করে আলোচিত দাবি সংবলিত ভুয়া ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
উল্লিখিত গণমাধ্যমসমূহ ব্যতীত অন্য কোনো গণমাধ্যম কিংবা সংশ্লিষ্ট বিশ্বস্ত কোনো সূত্রেও আলোচিত দাবির সমর্থনে কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
সুতরাং, চরমোনাই সরে যাওয়ায় ১৭৫ আসনে পরাজয়ের শঙ্কা জামায়াতের শীর্ষক দাবিতে উল্লিখিত গণমাধ্যমগুলোর নামে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো ভুয়া ও বানোয়াট।
তথ্যসূত্র
- Rumor Scanner’s analysis
- Prothom Alo: Facebook Post

