চট্টগ্রামের রাউজানে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ দাবিতে পুরোনো ভিডিও প্রচার

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে। প্রচারিত ভিডিওটি চট্টগ্রামের রাউজানে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা বলে দাবি করা হয়। ভিডিওটির সঙ্গে যুক্ত ক্যাপশনে বলা হয়েছে, “এইমাত্র চট্টগ্রামের রাউজানে বিএনপি বনাম জামায়াতের নির্বাচন উপলক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ শুরু হয়েছে।”

উক্ত দাবিতে প্রচারিত ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের নয় এবং সংঘর্ষটি জামায়াত-বিএনপির মধ্যকারও নয়। প্রকৃতপক্ষে, ২০২৪ সালে কুমিল্লার মেঘনায় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে, ওই সময়ের ধারণ করা ভিডিও এটি।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে STV News14 নামে একটি ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৪ সালের ৫ অক্টোবর প্রকাশিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওর সঙ্গে বর্তমানে প্রচারিত ভিডিওর সাদৃশ্য রয়েছে। ভিডিওর বিস্তারিত বর্ণনা থেকে জানা যায়, এটি কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের দৃশ্য। ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর উপজেলার বিআরটিসি মোড়ে কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার গ্রুপ ও মেঘনা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক রমিজ উদ্দিন লন্ডনীর গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। 

এ বিষয়ে আরও অনুসন্ধানে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর ভোরের কাগজ-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদনে সংযুক্ত ছবির সঙ্গে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি ও পারিপার্শ্বিক দৃশ্যের মিল রয়েছে। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এটি কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘটিত ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের দৃশ্য।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর, মঙ্গলবার দুপুরে মেঘনা উপজেলা বাসস্ট্যান্ডের সামনে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে হস্তক্ষেপ করে।

সুতরাং, চট্টগ্রামের রাউজানে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ দাবিতে ২০২৪ সালে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ভিডিও প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: