চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের বাসভবনে হামলা চেষ্টার ঘটনায় আটক সাজ্জাদ পাকিস্তানি নাগরিক নন

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে গণমাধ্যমের অফিসে হামলার পাশাপাশি চট্টগ্রামে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার ড. রাজীব রঞ্জনের বাসভবনেও হামলার চেষ্টা চালানো হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ১২ জনকে আটক করে পুলিশ। আটকদের মধ্যে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩ শিক্ষাবর্ষের একজন শিক্ষার্থীও ছিলেন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে একটি তথ্য প্রচার করা হয়। পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়, আটক ওই যুবক পাকিস্তানের নাগরিক। উক্ত যুবকের ছবি দাবিতে প্রচারিত পোস্টগুলোতে আটকের মুহূর্তে ধারণ করা তার একটি ছবিও ব্যবহার করা হয়েছে। 

ফেসবুকে প্রচারিত এমন পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

একই দাবিতে ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, চট্টগ্রামে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের বাসভবনে হামলা চেষ্টার অভিযোগে আটক ওই যুবক পাকিস্তানি নয়। এছাড়াও তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষার্থী নন। প্রকৃতপক্ষে, সেদিনের ঘটনায় আটক ওই শিক্ষার্থীর নাম সাজ্জাদ হোসাইন। তিনি চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত আছেন এবং তিনি পাকিস্তান নয় বরং, বাংলাদেশেরই নাগরিক।

অনুসন্ধানে সেদিন ঘটনাস্থল থেকে বিক্ষোভকারীদের আটকের মুহূর্তে ধারণ করা একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ভিডিওটিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ওই যুবককেও আটক করতে দেখা যায়।

পরবর্তীতে ঘটনার সূত্র ধরে অনুসন্ধানে আটক ওই যুবকের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সেদিন ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের বাসভবনের সামনে থেকে করা একটি লাইভ ভিডিওর সন্ধান পাওয়া যায়। ভিডিওটিতেও তাকে একই পোশাকে দেখতে পাওয়া যায়। 

তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টটিতে তার নাম সাজ্জাদ শেখ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও তার প্রোফাইল থেকে জানা যায়, তিনি চট্টগ্রাম ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিভাগে অনার্স সম্পন্ন করেছেন এবং বর্তমানে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম-এ আইন বিভাগে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত আছেন। তবে প্রোফাইলের কোথাও তার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কখনো পড়াশোনা করার বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সাজ্জাদ শেখ রিউমর স্ক্যানারকে জানান, ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের বাসভবনে হামলা ঘটনায় তাকে আটক করা হলেও পরবর্তীতে ছেড়ে দেওয়া হয়। এছাড়াও তিনি জানান, তিনি পাকিস্তানের নাগরিক নন। এমনকি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়েরও শিক্ষার্থী নন। তিনি রিউমর স্ক্যানারকে এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণও সরবরাহ করেন।

রিউমর স্ক্যানারকে সরবরাহকৃত এসব নথিপত্র থেকে জানা যায়, তার অফিসিয়াল নাম সাজ্জাদ হোসেন। এছাড়াও নিশ্চিত হওয়া যায় তিনি বাংলাদেশেরই নাগরিক। পাশাপাশি তার বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করেও তারা বাংলাদেশের নাগরিক বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। জানা যায়, তার চট্টগ্রামের পাঁচলাইশের ভোটার।

সুতরাং, চট্টগ্রামে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের বাসভবনে হামলার চেষ্টাকালে আটক সাজ্জাদ হোসেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও পাকিস্তানি নাগরিক দাবিতে প্রচারিত তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

  • Kaler Kantho Facebook Post
  • Sajjad Sheikh Facebook Post
  • Sajjad Hossain Statement and Documents
  • Rumor Scanner’s Analysis
Share: