ময়মনসিংহের ছাত্রলীগ নেত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যার দাবিতে গাইবান্ধার ভিন্ন ঘটনার ভিডিও প্রচার 

সম্প্রতি, “হাদীকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে সারাদেশে নিরহী আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের হত্যা করছে সুদখোর ইউনুছ বাহিনী। তারই অংশ হিসাবে ময়মনসিংহে ছাত্রলীগ নেত্রীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের পরে হত্যা করলো বিএনপির জামায়াতের জঙ্গি বাহিনী। পাকিস্তানের মদদে রাজাকারের বাচ্চারা সোনার বাংলাদেশ ধ্বংস করে দিচ্ছে।” শীর্ষক ক্যাপশনে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)

ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, এটি ময়মনসিংহে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের দ্বারা ছাত্রলীগ নেত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার কোনো ঘটনার ভিডিও নয় বরং, গাইবান্ধায় শিক্ষিকা আত্মহত্যার ঘটনার ভিডিওকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘আমাদের কণ্ঠ’ নামক ফেসবুক পেজে গত ১৬ সেপ্টেম্বর প্রচারিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওর সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওর মিল রয়েছে।

উক্ত ভিডিও ক্যাপশনে দাবি করা হয়, ভিডিওটি গাইবান্ধা মর্ডান বিদ্যালয়ের নিখোঁজ শিক্ষিকার মরদেহের।

এ বিষয়ে আরো অনুসন্ধান করে জাতীয় দৈনিক যুগান্তরের ওয়েবসাইটে গত ১৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, নিজের প্রতি হতাশা ক্ষোভ আর অভিমান ও যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে নদীতে ডুবে আত্মহননের পথ বেছে নেন গাইবান্ধার স্কুলশিক্ষিকা তাসনিম আরা নাজ। পুলিশের কাছে লিখিত দিয়ে তার পিতা নাসির উদ্দিন মেয়ের লাশ বাড়িতে নিয়ে দাফন করেন। তিনি সাংবাদিকদের কাছে এসব ঘটনা তুলে ধরে বলেন, প্রেম ভালোবাসা ও পুরুষ মানুষ তার জীবনের কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আজ সে মুক্তি নিয়ে চলে গেল। গাইবান্ধা সদর থানার ওসি শাহিনুর আলমের বরাতে বলা হয়, তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। দেখে মনে হচ্ছে আত্মহত্যা করেছেন।

অর্থাৎ, ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ে ময়মনসিংহের নয়।

সুতরাং, গাইবান্ধায় শিক্ষিকা আত্মহত্যার ঘটনার ভিডিওকে ময়মনসিংহে বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতাকর্মীদের দ্বারা ছাত্রলীগ নেত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার ভিডিও দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: