সম্প্রতি, ‘এটা কি আমাদের সোনার বাংলাদেশ মানবতার জন্য লজ্জাজনক! ফিরোজাবাদের ছোট্ট শিশু আরাভের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করছি। একটি নিষ্পাপ শিশুর প্রতি এমন নিষ্ঠুরতার অভিযোগ হৃদয়বিদারক। আমরা চাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং প্রকৃত অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা’ শিরোনামে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।
ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়। প্রকৃতপক্ষে, ভারতের উত্তর প্রদেশে শিশুকে আছাড়া দিয়ে হত্যার ভিডিওকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের ওয়েবসাইটে গত ৩০ মে ‘Man repeatedly slams toddler to ground, kills him to marry child’s mother’’ শিরোনামে প্রচারিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদনে সংযুক্ত ছবির সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওর মিল রয়েছে।

উক্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, উত্তর প্রদেশের ফিরোজাবাদে দেড় বছর বয়সী শিশু আরাভকে ভিরাজ নামক এক ব্যক্তি বারবার মেঝেতে আছড়ে ফেলে হত্যা করে। অভিযোগ উঠেছে, ওই ব্যক্তি শিশুটির মাকে ভালবাসতেন এবং শিশুটিকে তাদের সম্পর্ক ও বিয়ের পথে বাধা হিসেবে বিবেচনা করতো। ঘটনাটির একটি লোমহর্ষক সিসিটিভি ভিডিওতে দেখা যায়, লোকটি শিশুটির এক আত্মীয়ের বাড়ির বাইরের একটি ফাঁকা গলি দিয়ে তাকে কোলে করে নিয়ে যাওয়ার সময় একাধিকবার মাটিতে আছড়ে ফেলছে।
এ বিষয়ে আরো অনুসন্ধান করে ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অফ ইন্ডিয়ার ওয়েবসাইটে গত ৩০ মে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদনে ভফিরোজাবাদ পুলিশ কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়, বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে গিয়ে নিহতের মা রতির পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন অভিযুক্ত জিতেন্দ্র পাঠক ওরফে বিরাজ। একপর্যায়ে তিনি রতিকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেও রতি তা প্রত্যাখ্যান করেন। এরপরও বিরাজ রতিকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তিনি টফি কিনে দেওয়ার কথা বলে রতির ছেলে আরাভকে বাইরে নিয়ে যান। পরে শিশুটির ওপর নৃশংস হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
এবিষয়ে অন্যান্য ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত সংবাদ (১, ২, ৩) থেকেও একই তথ্য প্রকাশ করে।
সুতরাং, ভারতে শিশুকে আছাড় দিয়ে হত্যার ভিডিওকে বাংলাদেশের দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।


