সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, চীন ২০২৬ সালের মধ্যে বিশ্বের প্রথম “প্রেগন্যান্সি রোবট” চালুর পরিকল্পনা করেছে। যা একটি কৃত্রিম গর্ভ (Artificial Womb) প্রযুক্তি, যেখানে মানবদেহের বাইরে ভ্রূণের বৃদ্ধি সম্ভব হবে।

উক্ত দাবির ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, চীনে “প্রেগন্যান্সি রোবট” তৈরির দাবি তথ্যভিত্তিক নয়।
এ তথ্যের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি পাওয়া যায়নি। তবে কৃত্রিম গর্ভ প্রযুক্তি নিয়ে সীমিত গবেষণা চলমান থাকলেও, তা এখনো মানব জন্ম প্রক্রিয়া সম্পূর্ণরূপে প্রতিস্থাপন করার পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে জনপ্রিয় বিজ্ঞানভিত্তিক ওয়েবসাইট Live Science এর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সম্পূর্ণ রোবটিক ব্যবস্থার মাধ্যমে মানব গর্ভধারণ বর্তমানে সম্ভব নয়। এ সংক্রান্ত গবেষণা মূলত অতি প্রিম্যাচিউর শিশুদের বাঁচিয়ে রাখার পরীক্ষামূলক প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে সীমাবদ্ধ। এখন পর্যন্ত মানব ভ্রূণের পূর্ণ গর্ভকাল কৃত্রিমভাবে সম্পন্ন করার মতো প্রযুক্তি বাস্তবায়িত হয়নি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘প্রেগন্যান্সি রোবট’ বিষয়ক গল্পটি সঠিক নয়।
এ বিষয়ে আরও অনুসন্ধানে, ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান Snopes এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত “No, a ‘pregnancy robot’ wasn’t developed in China as option for surrogacy” শিরোনামে ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আগস্টে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রথম এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, চীনে প্রায় ১৪০০০ মার্কিন ডলার মূল্যের একটি রোবট তৈরি করা হচ্ছে, যা সন্তান জন্ম দিতে সক্ষম। আরও বলা হয়, ‘ঝাং কিফেং’ নামের এক উদ্ভাবক এই প্রযুক্তি তৈরি করেছেন এবং তিনি Nanyang Technological University (NTU), সিঙ্গাপুর থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, NTU কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে ‘ঝাং কিফেং’ নামে তাদের কোনো শিক্ষার্থী ছিল না এবং সেখানে এ ধরনের কোনো রোবট নিয়ে গবেষণাও পরিচালিত হয়নি। এছাড়া, বেইজিংয়ে আয়োজিত ওয়ার্ল্ড রোবট কনফারেন্সেও উল্লিখিত উদ্ভাবক বা সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একই দাবি পুনরায় প্রচারিত হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে কোনো স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক জার্নাল, গবেষণা প্রতিবেদন বা প্রযুক্তিগত প্রদর্শনীর (ডেমো) প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সুতরাং, চীনে তথাকথিত “প্রেগন্যান্সি রোবট” তৈরির দাবিটি ভিত্তিহীন ও মিথ্যা।


