নির্বাচন কমিশনের নামে সেনাবাহিনীর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর ও প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ চাওয়ার ভুয়া তথ্য প্রচার

গত ৫ নভেম্বর Al Minar নামের ইউটিউব চ্যানেলে “সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা দেওয়ার নির্দেশ, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ চাইলো সিইসি” শিরোনামে এবং থাম্বনেইলে একটি ভিডিও (আর্কাইভ) প্রকাশ করা হয়।

পদত্যাগ

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা দেওয়ার নির্দেশ দেয়নি এবং প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগও চায়নি বরং ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় ভিন্ন দুইটি ঘটনার ভিডিও ক্লিপ যুক্ত করে উক্ত ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে।

অনুসন্ধানের শুরুতেই আলোচিত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে রিউমর স্ক্যানার টিম। ১৪ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডের এই ভিডিওটিতে দেখা যায়, ভিডিওটির শুরুতে দুইটি ভিডিওর খণ্ডাংশ দেখানো হয়। পরবর্তীতে ভিডিওটিতে চ্যানেলটির উপস্থাপক আলোচিত ভিডিওটির উদ্দেশ্যে দুটি ভিডিও দেখান, যেগুলোতে ভয়েজ বাংলার প্রতিষ্ঠাতা সাংবাদিক মোস্তফা ফিরোজ এবং বাংলা ইনফোটিউব এর কন্টেন্ট ক্রিয়েটর শাহেদ আলমের বক্তব্য রয়েছে।

প্রথম ভিডিও যাচাই

প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ পদ্ধতিতে, গত ৪ নভেম্বর Voice Bangla নামক একটি ইউটিউব চ্যানেলে “হঠাৎ গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সাথে ভাতীয় দূতের সাক্ষাত। Mustofa Feroz I Voice Bangla” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত মূল ভিডিওটি খুঁজে পাওয়া যায়।

৬ মিনিট ১২ সেকেন্ডের এই ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায় মোস্তফা ফিরোজ গত ৩ নভেম্বর জাতীয় দৈনিক যুগান্তরে “শেখ হাসিনার প্রতি দৃঢ় সমর্থন থাকবে ভারতের” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পড়ে শোনাচ্ছেন।

এছাড়া, গত ৩ নভেম্বর জাতীয় দৈনিক ইত্তেফাকে “নতুন তিনটি প্রকল্প দুই দেশের জন্যই কল্যাণকর: প্রধানমন্ত্রী” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত আরও একটি প্রতিবেদন পড়ে শোনান তিনি।

মোস্তফা ফিরোজের এই ভিডিওটি কোনো প্রকার প্রাসঙ্গিকতা ছাড়াই আলোচিত দাবির ভিডিওটির সাথে যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া উক্ত দাবি সম্পর্কে দেশীয় কিংবা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কোনো তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।

দ্বিতীয় ভিডিওটি যাচাই

অনুসন্ধানে কি-ওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে গত ৪ নভেম্বর Bangla InfoTube নামক একটি ইউটিউব চ্যানেলে “মাঠের মনোবল বুঝত্র হলে ২ ছবি ও কিছু কথা” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত শাহে আলমের মূল ভিডিওটি খুঁজে পাওয়া যায়।

১১ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডের এই ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায় শাহেদ আলম গত ২ নভেম্বর চ্যানেল ২৪ এর ওয়েবসাইটে “গ্রেপ্তার আতঙ্কে ফসলের মাঠে রাত কাটছে বিএনপির নেতাকর্মীদের” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা করছিলেন।

এছাড়া, ভিডিওতে থাকা তথ্যের সাথে আলোচিত ভিডিওটির দাবির কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি।

অর্থাৎ, প্রচারিত ভিডিওটিতে ভিন্ন ভিন্ন ঘটনার যে ভিডিও ক্লিপগুলো যুক্ত করা হয়েছে সেগুলোতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া এবং প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ চাওয়া বিষয়ক কোনো তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এছাড়া, বাংলাদেশের মূলধারার কোনো গণমাধ্যম কিংবা অন্যকোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া এবং প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ চাওয়া বিষয়ক কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

মূলত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালুর দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো রাজপথে আন্দোলন করে আসছে। এরই প্রেক্ষাপটে Al Minar নামক একটি ইউটিউব চ্যানেলে “সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা দেওয়ার নির্দেশ, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ চাইলো সিইসি” শীর্ষক থাম্বনেইল এবং শিরোনামে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়। তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, দাবিটি সঠিক নয়। অধিকতর ভিউ পাবার আশায় চটকদার থাম্বনেইল ও শিরোনাম ব্যবহার করে কোনোপ্রকার নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র ছাড়াই আলোচিত দাবিটি প্রচার করা হয়। এছাড়া, নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রেও এমন কোনো তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, পূর্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে নিয়ে ইন্টারনেটে ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়লে তা শনাক্ত করে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করে রিউমর স্ক্যানার। এমন কিছু ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন দেখুন এখানে:

সুতরাং, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া এবং প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ চাওয়া সংক্রান্ত দাবিগুলো মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: