অনন্ত আম্বানির বিয়েতে খাদ্য ঘাটতি দেখা দেওয়ার দাবিতে এডিটেড ভিডিও প্রচার

সম্প্রতি, ভারতের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি মুকেশ আম্বানির ছোট ছেলে অনন্ত আম্বানির প্রাক-বিবাহ অনুষ্ঠানে খাবার কম পড়েছে দাবিতে অতিথিদের প্লেট থেকে মুকেশ আম্বানির খাবার তুলে নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করা হয়েছে।

ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)

টিকটকে প্রচারিত ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ইউটিউবে প্রচারিত ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, অনন্ত আম্বানির প্রাক-বিবাহ অনুষ্ঠানে খাদ্য ঘাটতি দেখা দেওয়ায় অতিথিদের প্লেট থেকে খাবার তুলে নেওয়ার দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি আসল নয়। প্রকৃতপক্ষে, অনন্ত আম্বানির প্রাক-বিবাহ অনুষ্ঠান উপলক্ষে জামনগর গ্রামবাসীদের নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুকেশ আম্বানির খাবার পরিবেশন করার একটি ভিডিওকে ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনার মাধ্যমে ভিডিওটি রিভার্স প্লে করে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ভিডিওটির কয়েকটি কী-ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে Filmymonkey ABP News নামের একটি ফেসবুক পেজে গত ২৯ ফেব্রুয়ারি Mukesh Ambani serves food at the anna seva ceremony of Anant and Radhika শীর্ষক শিরোনামে প্রচারিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। 

ভিডিওটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মুকেশ আম্বানির খাবার পরিবেশনের উক্ত ভিডিওর সাথে আলোচিত ভিডিওর মিল রয়েছে।

তবে লক্ষ্য করা যায়, উক্ত ভিডিওটিকে মূলত রিভার্স প্লে করার মাধ্যমে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে। যার কারণে খাবার পরিবেশনের পরিবর্তে আলোচিত ভিডিওটিতে মুকেশ আম্বাানিকে প্লেট থেকে খাবার তুলে নিতে দেখা যাচ্ছে।

পরবর্তীতে কি-ওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে ভারতীয় গণমাধ্যম The Economic Times এর ইউটিউব চ্যানেলে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি Anant Ambani pre-shaadi events: Anna Seva for villagers in Jamnagar, Mukesh Ambani serves food শীর্ষক শিরোনামে প্রচারিত একটি মাল্টিমিডিয়া প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

উক্ত প্রতিবেদনেও মুকেশ আম্বানিও খাবার পরিবেশনের আলোচিত দৃশ্যটি দেখতে পাওয়া যায়। এছাড়াও প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, ভিডিওটি অনন্ত আম্বানি এবং রাধিকা মার্চেন্টের প্রাক-বিবাহ অনুষ্ঠানে মুকেশ আম্বানি কর্তৃক গ্রামের অতিথিদের খাবার পরিবেশনের।প্রাক-বিবাহ উদযাপনের জন্য স্থানীয় সম্প্রদায়ের আশীর্বাদ পেতে আন্নাসেবার আয়োজন করা হয়। যেখানে প্রায় ৫১ হাজার জামনগরবাসীকে নিমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। উক্ত অনুষ্ঠানে মুকেশ আম্বানি, অনন্ত আম্বানি এবং রাধিকা বণিক-সহ আম্বানি পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা গ্রামবাসীদের ঐতিহ্যবাহী গুজরাটি খাবার পরিবেশন করেন।

পরবর্তীতে উক্ত অনুষ্ঠানে খাদ্য ঘাটতি দেখা দিয়েছিল কিনা তা জানতে প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন কি-ওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমেও ভারতীয় কিংবা আন্তর্জাতিক কোনো গণমাধ্যম কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

অর্থাৎ, অনন্ত আম্বানির প্রাক-বিবাহ অনুষ্ঠানে খাবার সংকট দেখা দেওয়ায় খাবার তুলে নেওয়ার ভিডিও দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি সম্পাদিত।

মূলত, মার্চ মাসের শুরুতেই আয়োজিত হয় ভারতের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি মুকেশ আম্বানির ছোট ছেলে অনন্ত আম্বানির প্রাক-বিবাহ অনুষ্ঠান। অনন্ত আম্বানি এবং রাধিকা মার্চেন্টের এই প্রাক-বিবাহ অনুষ্ঠান চলে ১ মার্চ থেকে ৩ মার্চ পর্যন্ত। জমকালো এই তিন দিনের আয়োজনকে কেন্দ্র করে পুরো ইন্টারনেই দুনিয়াই বেশ সরব ছিল। মূলত তিনদিনের আয়োজন হলেও এর পূর্বে জামনগরবাসীদের নিয়ে আয়োজিত হয় অন্নসেবা নামের আর্শীবাদ অনুষ্ঠান। যেখানে প্রায় ৫১ হাজার গ্রামবাসীকে দাওয়াত করে খাওয়ান মুকেশ আম্বানি। উক্ত অনুষ্ঠানে ছেলে এবং পুত্রবধূর আগামী দিনের জন্যে গ্রামবাসীদের কাছে আর্শীবাদ চেয়ে নিজ হাতে খাবার পরিবেশন করেন তিনি। এরই প্রেক্ষিতে সম্প্রতি, মুকেশ আম্বানির ছোট ছেলে অনন্ত আম্বানির প্রাক-বিবাহ অনুষ্ঠানে খাদ্যঘাটতি হওয়ায় অতিথিদের প্লেট থেকে খাবার তুলে নিচ্ছেন মুকেশ আম্বানি দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করা হয়েছে। তবে রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে দেখা যায়, অনন্ত আম্বানির প্রাক-বিবাহ অনুষ্ঠানে খাবার সংকট দেখা দেওয়ার মত কোনো ঘটনা ঘটেনি। প্রকৃতপক্ষে, মুকেশ আম্বানির খাবার পরিবেশন করার একটি ভিডিওকে ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পদনার মাধ্যমে রিভার্স প্লে করার মাধ্যমে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে।

সুতরাং, মুকেশ আম্বানির ছেলের বিয়েতে খাদ্য ঘাটতি দেখা দেওয়ায়  অতিথিদের প্লেট থেকে খাবার তুলে নেওয়ার ভিডিও দাবিতে ইন্টারনেটে প্রচারিত ভিডিওটি এডিটেড বা সম্পাদিত।

তথ্যসূত্র

Share: