ফিলিস্তিনে মসজিদে আযান দেওয়ার সময় বোমা হামলার দৃশ্য দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি সিরিয়ার

সম্প্রতি, “ফিলিস্তিনের একটি মসজিদে আযান দেওয়ার সময় বোমা হামলা” শীর্ষক দাবিতে একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে। 

বোমা হামলা

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত এমন কিছু ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

একই দাবিতে টিকটকে প্রচারিত কিছু ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ইউটিউবে প্রচারিত ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি ফিলিস্তিনে মসজিদে আযান দেওয়ার সময়ে বোমা হামলার নয়। বরং এটি সিরিয়ার রাক্কায় ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড সিরিয়া (আইএসআইএস) কর্তৃক ওয়াইস আল কারানি মসজিদে বোমা হামলার একটি দৃশ্য।

দাবিটি নিয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে ভিডিওটির কিছু স্থিরচিত্র রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে ২০১৪ সালের ৪ জুন ফ্রান্সের একটি ইউটিউব চ্যানেলে “ISIS ont démoli le Sanctuaire de Ouweis al-Qarani” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়।

এই ভিডিওটির সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটির মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

উক্ত ভিডিওটির বিস্তারিত বিবরণী থেকে জানা যায়, ইসলামি স্টেট (আইএসআইএস) ওয়াইস আল কারানির মাজার ধ্বংস করেছে।

এছাড়া লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সে ২০১৪ সালের ২৬ মার্চ “Islamists bomb Shi’ite shrine in eastern Syria: activists” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় শহর রাক্কায় অবস্থিত শিয়া মুসলিমদের ধর্মীয় স্থান আম্মার বিন ইয়াসির ও ওয়াইস আল কারানি মসজিদে হামলা চালিয়েছে ইসলামি স্টেটের যোদ্ধারা।

পরবর্তীতে এসব সূত্র ধরে ওয়াইস আল কারানির মাজারটির অবস্থান নিয়ে অনুসন্ধান করে রিউমর স্ক্যানার টিম।

এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর স্ট্র‍্যাটেজিক কমিউনিকেশনের ওয়েবসাইটে ২০১৪ সালের ২০ মে ‘The destruction of the Shrine of Uways in Raqqa, Syria’ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

এই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ওয়াইস আল কারানির মাজার সিরিয়ার রাক্কায় অবস্থিত। পাশাপাশি প্রতিবেদনটি থেকে মাজারটি ধ্বংসের আগে-পরের একটি তুলনামূলক চিত্রও খুঁজে পাওয়া যায়।

পাশাপাশি জাতিসংঘের ইনস্টিটিউট ফর ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ ২০১৫ সালে সিরিয়ার ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ স্থানগুলো নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

এ প্রতিবেদন থেকেও নিশ্চিত হওয়া যায় ফিলিস্তিনের মসজিদ দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটিতে থাকা স্থাপনাটি সিরিয়ার রাক্কায় অবস্থিত ওয়াইস আল কারানির মাজার।

মূলত, গত ০৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ইসরায়েলে ‘অপারেশন আল-আকসা ফ্লাড’ নামে হামলা করলে ফিলিস্তিন-ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাত নতুন মাত্রা পায়৷ এই সংঘাতকে কেন্দ্র করে ফিলিস্তিনের একটি মসজিদে আযান দেওয়ার সময় বোমা হামলার দৃশ্য দাবিতে একটি ভিডিও ইন্টারনেটে প্রচার করা হচ্ছে। তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই ভিডিওটি উক্ত সংঘাত শুরুর পূর্ব থেকেই ইন্টারনেটে বিদ্যমান এবং এটি সিরিয়ার রাক্কায় ওয়াইস আল কারানি মসজিদে বোমা হামলার একটি দৃশ্য।

উল্লেখ্য, চলমান ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের সংঘাত ইস্যুতে একাধিক ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে একাধিক ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রিউমর স্ক্যানার৷

সুতরাং, ফিলিস্তিনের একটি মসজিদে আযান দেওয়ার সময় বোমা হামলার দৃশ্য দাবিতে একটি ভিডিও ইন্টারনেটে প্রচার করা হচ্ছে ; যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: