প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুর গুজব

সম্প্রতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মারা গেছেন দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক এবং শর্ট ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টিকটকে প্রচার করা হয়েছে।

শেখ হাসিনার

ফেসবুকে প্রচারিত এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

টিকটকে প্রচারিত এমন কিছু ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মারা যাননি বরং কোনো প্রকার গ্রহণযোগ্য তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই ভিত্তিহীনভাবে উক্ত দাবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক এবং শর্ট ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টিকটকে প্রচার করা হয়েছে।

অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে রিউমর স্ক্যানার টিম। ভিডিওটিতে বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি দেখিয়ে বলা হয়, ‘আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। দুপুরে পুলিশের এক সাব ইন্সপেক্টর তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়।’

অডিও যাচাই

প্রাসঙ্গিক কি ওয়ার্ড অনুসন্ধানের মাধ্যমে আলোচিত ভিডিওটির অডিও অংশে বলা ভয়েসের সাথে মূলধারার ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম যমুনা টিভির ইউটিউব চ্যানেলে চলতি বছরের ২৯ জুন ভারতের ওড়িশার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নিহতের বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদপাঠের প্রথম ৯ সেকেন্ডের অংশের মিল পাওয়া যায়। অর্থাৎ, ভিন্ন ঘটনার ভিডিওতে যমুনা টিভির এই প্রতিবেদনের একটি অংশের অডিও সংযুক্ত করা হয়েছে। ভিডিওতে লোকসমাগমের দৃশ্যটি কখন কোথায় ধারণ করা হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও এটা নিশ্চিত যে উক্ত লোকসমাগমের ভিডিওর সাথে প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুর দাবির কোনো সম্পর্ক নেই।

এছাড়া, অনুসন্ধানে মূলধারার গণমাধ্যম এবং সংশ্লিষ্ট অন্যকোনো সূত্রে এই দাবিটির সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি।

প্রাসঙ্গিক কি ওয়ার্ড অনুসন্ধানের মাধ্যমে ভয়েস অফ আমেরিকার বাংলা সংস্করণে গত ২২ সেপ্টেম্বর ‘ইউএনজিএ-তে ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৮তম অধিবেশনে শুক্রবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুরে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই ভাষণে তিনি জলবায়ু পরিবর্তন, রোহিঙ্গা সংকট, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং অন্যান্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) ইউটিউব চ্যানেলে গত ২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উক্ত ভাষণের ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়।

পরবর্তীতে, ম্যানুয়ালি অনুসন্ধানের মাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে আজ ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রধানমন্ত্রী এবং তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের একটি ছবি খুঁজে পাওয়া যায়।

ছবিটির বিস্তারিত বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাগানে উৎসর্গীকৃত বেঞ্চে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর সুযোগ্য কন্যা ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) থিম্যাটিক অ্যাম্বাসেডর এবং অটিজম ও নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল।’

তাছাড়াও, মূলধারার গণমাধ্যম যুগান্তরের অনলাইন সংস্করণে আজ ২৪ সেপ্টেম্বর ‘ওয়াশিংটন ডিসি পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী’ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৮তম অধিবেশন এবং অন্যান্য উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব ও দ্বিপক্ষীয় অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক থেকে ওয়াশিংটন ডিসিতে পৌছান। এছাড়াও, প্রধানমন্ত্রী ২৯ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের উদ্দেশে ওয়াশিংটন ডিসি ত্যাগ করবেন এবং ৩ অক্টোবর পর্যন্ত লন্ডনে অবস্থান করবেন। সফর শেষ করে প্রধানমন্ত্রী দেশের উদ্দেশে লন্ডন ত্যাগ করবেন। আগামী ৪ অক্টোবর তার ঢাকায় পৌছানোর কথা রয়েছে।

অর্থাৎ, উপরোক্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করলে এটা স্পষ্ট যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মারা গেছেন দাবিতে প্রচারিত তথ্যটি সঠিক নয়।

মূলত, সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মারা গেছেন দাবিতে একটি ভিডিও ইন্টারনেটে প্রচারের প্রেক্ষিতে রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত দাবিটি ভিত্তিহীন এবং বানোয়াট। প্রকৃতপক্ষে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুস্থ এবং জীবিত আছেন। তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থান করছেন।

উল্লেখ্য, পূর্বেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রিউমর স্ক্যানার।

সুতরাং, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মারা গেছেন দাবিতে প্রচারিত তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: