নির্বাচনে জামায়াতের বিপক্ষে কথিত সেনা কর্মকর্তার বক্তব্য দাবিতে এআই-নির্মিত ভিডিও প্রচার

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সেনা কর্মকর্তার বক্তব্য দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।
ভিডিওটিতে সেনাবাহিনীর পোশাক পরিহিত এক ব্যক্তি কর্তৃক নিজেকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল আজমাতুল্লাহ পরিচয় দিয়ে বলতে শোনা যায়, “আমি লেফটেন্যান্ট কর্নেল আজমাতুল্লাহ, জামায়াতকে ভোট দেবেন না। যদি আপনি জামায়াতকে ভোট দেন তাহলে তারা দেশকে ভারতের কাছে বিক্রি করে দেবে।”
এছাড়া, আলোচিত ভিডিওর নিচে যমুনা টেলিভিশনের নাম ও লোগো’র উপস্থিতি দেখতে পাওয়া যায়।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিও দেখুন: এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সেনা কর্মকর্তার বক্তব্য দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি আসল নয়। প্রকৃতপক্ষে, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি করা একটি ভুয়া ভিডিও।
স্বাভাবিকভাবে, আসন্ন নির্বাচন ঘিরে কোনো সেনা কর্মকর্তা জামায়াতকে জড়িয়ে এরূপ মন্তব্য করলে তা নিয়ে গণমাধ্যমে ঢালাওভাবে খবর প্রচার হতো। তবে, এ বিষয়ে অনুসন্ধানে গণমাধ্যম কিংবা বিশ্বস্ত সূত্রে আলোচিত দাবির সপক্ষে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পাশাপাশি, প্রচারিত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করলে এর ভয়েস ও পারিপার্শ্বিক অবস্থাতেও খানিকটা অস্বাভাবিকতা পরিলক্ষিত হয়, যা সাধারণত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি কনটেন্টে দেখা যায়। পরবর্তীতে, বিষয়টি অধিকতর নিশ্চিতে রিউমর স্ক্যানার ভিডিওটি ‘হাইভ মোডারেশন’ টুলের ‘Hive Detect AI’ মডেল দিয়ে পরীক্ষা করে। মডেলটির বিশ্লেষণে, ভিডিওটি এআই-নির্মিত হওয়ার সম্ভাবনা সিংহভাগ বলে জানানো হয়।

এছাড়া, ‘ডিপফেক-ও-মিটার’ টুলের ‘AVSRDD (2025)’ মডেলের বিশ্লেষণেও ভিডিওটি এআই-নির্মিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ বলে জানা যায়।

অর্থাৎ, প্রচারিত ভিডিওটি বাস্তব নয় বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহারে তৈরি করা হয়েছে তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে।
তাছাড়া, যমুনা টেলিভিশনের ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট কিংবা ইউটিউব চ্যানেলেও আলোচিত দাবি সংবলিত ভিডিওটির বিষয়ে কোনো তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, পূর্বেও কথিত সেনা কর্মকর্তা লে. কর্ণেল আজমাতুল্লাহ কে উদ্ধৃত করে ক্ষমতা গ্রহণের ভুয়া দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছিল। সেসময়ে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল রিউমর স্ক্যানার। সেসময় কথিত সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল আজমাতুল্লাহ বিষয়ে অনুসন্ধানে রিউমর স্ক্যানার টিম এমন নামের কোনো ব্যক্তির সন্ধান পায়নি। এছাড়া সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের তালিকা যাচাই করেও এই নামে কোনো লেফটেন্যান্ট কর্নেল পাওয়া যায়নি।
সুতরাং, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিপক্ষে কথিত সেনা কর্মকর্তার বক্তব্য দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি এআই-নির্মিত।
তথ্যসূত্র
- Hive Detect AI: AI Content Detector
- DeepFake-O-Meter: AI Content Detector
- Jamuna TV: Facebook Page
- Jamuna TV: Website
- Jamuna TV: Youtube Channel
- Rumor Scanner’s Analysis

