তারেক রহমানের মনোনয়ন বৈধতা প্রসঙ্গে পুলিশের বক্তব্য দাবিতে এআই-নির্মিত ভিডিও প্রচার

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৮টি আসনে মোট ১ হাজার ৯৮১ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রার্থী আছেন ১ হাজার ৭৩২ জন। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন ২৪৯ জন। দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। এরই প্রেক্ষিতে “তারেক রহমান দুই দেশের নাগরিকত্ব থাকার পরেও তাকে নির্বাচন করতে দেওয়া হচ্ছে কেন” শিরোনামে পুলিশের বক্তব্য দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।
ভিডিওটিতে ৫ জন ভিন্ন ভিন্ন চেহারার ব্যক্তিকে পুলিশের পোশাক পরিহিত অবস্থায় বলতে শোনা যায়, “লন্ডন থেকে আগত নেতা ৪০ বছর বয়সে ভোটার হলো, তাও আবার তফসিল ঘোষণার পর। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে আইডি কার্ড দেওয়া হলো। দুই দেশের নাগরিকত্ব থাকার পরেও তার নমিনেশন বৈধ ঘোষণা করা হলো। লন্ডন নেতার বাৎসরিক আইডি দিয়েছে ৬ লক্ষ টাকা। যার মাসিক ইনকাম ৫০ হাজার টাকা। এই সামান্য টাকা দিয়ে ঢাকার গুলশান এলাকায় কিভাবে থাকেন? তার চলাফেরা, তেল খরচ, ড্রাইভারের বেতন দেয় কিভাবে? লন্ডন নেতার পুরো জীবনটাই তো জালিয়াতি দিয়ে ভরা। মুচলেকা দিয়ে যারা ছেড়ে পালিয়েছিলো, সে এখন বাংলাদেশ শাসন করার স্বপ্ন দেখে। এই বাটপারদের জনগণ কখনো ক্ষমতার চেয়ারে বসাবে না। এই দেড় বছরে তাদের আসল চেহারা দেখে ফেলেছে এদেশের সাধারণ মানুষ।”

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিও দেখুন: এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, আলোচিত ভিডিওটি আসল নয়। প্রকৃতপক্ষে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া এই ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে বিশ্বস্ত কোনো সূত্র বা গণমাধ্যমে উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া, প্রচারিত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করলে এতে থাকা ব্যক্তির পোশাক ও মুখাবয়বের অস্বাভাবিকতা পরিলক্ষিত হয়, যা সাধারণত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি কনটেন্টে দেখা যায়। পাশাপাশি, পুলিশের পোশাকে থাকা ব্যক্তির নামের স্থলে অর্থপূর্ণ নয় এমন শব্দের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়।
পরবর্তীতে ভিডিওটি এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী টুল হাইভ মডারেশনে বিশ্লেষণ করা হলে, এটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ বলে ফলাফল আসে।

বিষয়টি অধিকতর নিশ্চিত হতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি কনটেন্ট শনাক্তকারী টুল ‘ডিপফেক-ও-মিটার’ এর ‘AVSRDD (2025)’ মডেলের মাধ্যমে ভিডিওটি পরীক্ষা করে রিউমর স্ক্যানার। মডেলটির বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ৯৯.৯ শতাংশ।

সুতরাং, বিএনপির চেয়ারম্যান “তারেক রহমান দুই দেশের নাগরিকত্ব থাকার পরেও তাকে নির্বাচন করতে দেওয়া হচ্ছে কেন” শিরোনামে পুলিশের বক্তব্য দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি এআই নির্মিত।
তথ্যসূত্র
- Prothom Alo: নির্বাচনে মোট প্রার্থী ১৯৮১, বিএনপির ২৮৮, জামায়াতের ২২৪
- Hive Moderation: Hive Detect AI
- Deep-fake-o-meter: AVSRDD (2025)
- Rumor Scanner’s Analysis

