পাহাড়ি ঢল, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ধসে দেশে চলমান বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় চরম মানবিক সংকটে রয়েছেন। তলিয়ে গেছে নলকূপ ও শৌচাগার। ফলে বিশুদ্ধ পানি, খাবার ও স্যানিটেশনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে গত ১২ জুলাই ‘অতিরিক্ত বৃষ্টির বন্যার জন্য কাল থেকে দেশের সকল পোশাক কারখানা বন্ধ থাকবে’ দাবিতে বেসরকারি ইলেকট্রনিক সংবাদমাধ্যম ‘এনটিভি’ এর লোগো সংবলিত একটি ভিডিও টিকটকে প্রচার করা হয়েছে।
ভিডিওটিতে একজন সংবাদ পাঠিকাকে বলতে শোনা যায়, ‘উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় শ্রমিকদের নিরাপত্তাজনিত কারনে কাল থেকে দেশের সব পোশাক কারখানা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।’
উক্ত দাবিতে টিকটকে প্রচারিত ভিডিওটি দেখুন: এখানে (আর্কাইভ)।
এই প্রতিবেদন প্রকাশ অবধি টিকটকে প্রচারিত ভিডিওটি ২৫ হাজারের অধিকবার দেখা হয়েছে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, চলমান বন্যায় দেশের সব পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়নি। প্রকৃতপক্ষে, ২০২৪ সালের আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে দেশের সব পোশাক কারখানা বন্ধের ঘোষণার বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত দুইটি আলাদা ভিডিও প্রতিবেদন ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় একত্রিত করে আলোচিত দাবি সংবলিত ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘এনটিভি’ এর ইউটিউব চ্যানেলে গত বছরের ২৯ অক্টোবরে প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওর সাথে আলচিত দাবি সংবলিত ভিডিওর দৃশ্যের মিল থাকলেও এর অডিওতে অমিল খুঁজে পাওয়া যায়।
পরবর্তীতে, অডিওর বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘নিউজ২৪’ এর ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৪ সালের ৪ আগস্টে ‘কাল থেকে বন্ধ দেশের সব গার্মেন্টস’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ৩৩ সেকেন্ড সময়ের দীর্ঘ এই ভিডিওটির শুরুর ৭ সেকেন্ড সময়ের সাথে আলোচিত দাবি সংবলিত ভিডিওটির অডিও পুরোপুরি মিল পাওয়া যায়।
অর্থাৎ, নিউজ২৪ এর ভিডিও প্রতিবেদনের অডিও ‘এনটিভি’ এর ভিন্ন একটি ভিডিওর সাথে জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, সাম্প্রতিক বন্যায় দেশের সব পোশাক কারখানা বন্ধ রাখার খবর দেশিয় মূলধারার সংবাদ মাধ্যম কিংবা বিশ্বস্ত কোনো সূত্রেও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
সুতরাং, ‘অতিরিক্ত বৃষ্টির বন্যার জন্য কাল থেকে দেশের সকল পোশাক কারখানা বন্ধ থাকবে’ দাবিতে পুরোনো সংবাদ বিকৃত করে সাম্প্রতিক সময়ের দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।


