নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে সেনা সদস্যের বক্তব্য দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি এআই নির্মিত

গত ১২-ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর এখন সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। এরই প্রেক্ষিতে “সারা বাংলাদেশের মানুষ চায় জামায়াত ক্ষমতায় আসুক আর প্রশাসন চায় বিএনপি ক্ষমতায় আসুক” বলে সেনা সদস্যের বক্তব্য দাবিতে একটি ভিডিও টিকটকে প্রচার করা হয়েছে।
ভিডিওটিতে সেনাবাহিনীর পোশাকের আদলে পোশাক পরিহিত এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, “প্রিয় দেশবাসী আমরা সারারাত নির্বাচন ভবনের সামনে ছিলাম, আজকে একটা সত্য কথা সবাইকে বলে দেবো যা কেউ জানেনা। সারা বাংলাদেশের মানুষ চায় জামায়াত ক্ষমতায় আসুক আর প্রশাসন চায় বিএনপি ক্ষমতায় আসুক, তারেক ক্ষমতায় থাকুক। জামায়াত ৩০০ আসন পেয়েও লাভ নাই, কারণ তাদেরকে ক্ষমতা দেওয়া হবেনা। তাদের ক্ষমতা দিলে আমাদের চাকরি বাঁচবে না, আমরা বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পাবো না। এজন্যই তারেককে প্রধানমন্ত্রী আমরা বানিয়েছি।”
এই প্রতিবেদন প্রকাশ অবধি টিকটকে প্রচারিত ভিডিওটি ১ লক্ষ ২৫ হাজারের অধিক বার দেখা হয়েছে।

উক্ত ভিডিওটি দেখুন: এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, আলোচিত ভিডিওটি আসল নয়। প্রকৃতপক্ষে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া এই ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে, বিশ্বস্ত কোনো সূত্র বা প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমে সেনা সদস্যের এমন বক্তব্য সংবলিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এছাড়া, ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে একাধিক অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যায়। যেমন, সেনা সদস্যের পোশাক, পেছনে উপস্থিত অন্যান্য সদস্যদের নড়াচড়া ও গাড়িগুলোর অস্বাভাবিক অবস্থান। পাশাপাশি, কথা বলার সময়ে তার ঠোঁটের অস্বাভাবিক নড়াচড়া লক্ষ্য করা যায়, যা বাস্তবিকের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
পরবর্তীতে, ভিডিওটি এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী টুল হাইভ মডারেশনে বিশ্লেষণ করলে এটি কৃত্রিমভাবে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ বলে ফলাফল পাওয়া যায়।

পাশাপাশি, এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী আরেক টুল ডিপফেক ও মিটারের বিশ্লেষণেও প্রচারিত ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহারে নির্মিত হওয়ার সম্ভাবনা সিংহভাগ বলে জানা যায়।
সুতরাং, ‘জামায়াত ৩০০ আসন পেয়েও লাভ নেই, কারণ প্রশাসন চায় বিএনপি আসুক’ শীর্ষক সেনা সদস্যের বক্তব্য দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি এআই-নির্মিত।

