আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতের পক্ষে ভোট চেয়ে সেনা সদস্যের বক্তব্য দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি এআই-নির্মিত 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ভোট চেয়ে সেনা সদস্যের বক্তব্য দাবিতে একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

ভিডিওটিতে সেনাবাহিনীর পোশাক পরিহিত এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, “সন্ত্রাসমুক্ত চাঁদাবাজমুক্ত দেশ গড়ার জন্য সবাই জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিন। আপনার সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য দাঁড়িপাল্লাতে ভোট দিতে হবে। শিক্ষিত এবং ভালো মানুষ দিয়ে দেশ চালানোর মাধ্যমে পুরো দেশটাই সুশিক্ষায় শিক্ষিত হবে। জামায়াত-ই পারবে, কারণ জামায়াতে কোনো চাঁদাবাজ নেই, কোনো সন্ত্রাস নেই। যারা জামায়াতকে ক্ষমতায় দেখতে চান তারা শেয়ার করে দিন।”

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিও দেখুন: এখানে (আর্কাইভ)।

‘Haque Television’ নামক একটি ফেসবুক পেজ থেকে গত ১৩ জানুয়ারিতে ১৮ সেকেন্ড সময়ের দীর্ঘ এই কনটেন্টটি আপলোড করার পর এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত ভিডিওটি দেখা হয়েছে প্রায় ২ লক্ষ ০৩ হাজারবার। কনটেন্ট এনগেজমেন্ট বিশ্লেষণে আরো দেখা যাচ্ছে, ভিডিওতে রিয়েক্ট পড়েছে ২০ হাজারের অধিক। শেয়ার হয়েছে প্রায় ১০ হাজারবারের অধিক এবং ভিডিওতে মন্তব্য এসেছে প্রায় ৭০০ টি। এছাড়া, কমেন্টে ভিডিওটিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

টিকটকে প্রাচারিত পোস্ট দেখুন এখানে

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ভোট চেয়ে সেনা সদস্যের বক্তব্য দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি আসল নয়। প্রকৃতপক্ষে, প্রচারিত ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করে গণমাধ্যম কিংবা বিশ্বস্ত সূত্রে আলোচিত দাবির সপক্ষে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি, প্রচারিত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করলে ভয়েস ও পারিপার্শ্বিক অবস্থাতেও খানিকটা অস্বাভাবিকতা পরিলক্ষিত হয়, যা সাধারণত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি কনটেন্টে দেখা যায়।

পরবর্তীতে, বিষয়টি অধিকতর নিশ্চিতে রিউমর স্ক্যানার ভিডিওটি ‘হাইভ মোডারেশন’ টুলের ‘Hive Detect AI’ মডেল দিয়ে পরীক্ষা করে। মডেলটির বিশ্লেষণে, ভিডিওটি এআই-নির্মিত হওয়ার সম্ভাবনা সিংহভাগ বলে জানানো হয়।

এছাড়া, ‘ডিপফেক-ও-মিটার’ টুলের ‘LIPINC’ মডেলের বিশ্লেষণেও ভিডিওটি এআই-নির্মিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ বলে জানা যায়।

অর্থাৎ, প্রচারিত ভিডিওটি বাস্তব নয় বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহারে তৈরি করা হয়েছে তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে।

সুতরাং, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ভোট চেয়ে সেনা সদস্যের বক্তব্য দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি এআই নির্মিত।

তথ্যসূত্র

Share: