নারায়ণগঞ্জের জামায়াত নেতার বাড়িতে যুবতীর লাশ পাওয়ার দাবি ভুয়া, ভিডিও শেরপুরের ভিন্ন ঘটনার

সম্প্রতি, ‘নারায়ণগঞ্জ জামায়াত নেতার বাড়িতে প্রতিবেশী যুবতীর লাশ উদ্ধার করেছে এলাকাবাসী। উলঙ্গ অবস্থায় টাংকের ভিতরে লাশ পাওয়া যায়। এলাকাবাসী জানিয়েছে তাকে ধর্ষণের পরে হত্যা করা হয়েছে এবং জামায়াতের নেতা,বাড়ির মালিক পালাতক রয়েছে…’ শিরোনামে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।
উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিও দেখুন এখানে, এখানে।
একই দাবির ভিডিও দেখুন ইনস্টাগ্রামে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত ভিডিওটি নারায়ণগঞ্জের নয় এবং এর সাথে রাজনৈতিক কোনো সম্পর্ক নেই। প্রকৃতপক্ষে, গত এপ্রিলে শেরপুরে এই নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়৷ উক্ত সময়ের ভিডিওকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে। জানা যায়, শারীরিক সম্পর্কের পর টাকা নিয়ে ঝগড়া হওয়ায় খুন করা হয় ওই নারীকে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে জাতীয় দৈনিক ইনকিলাবের ওয়েবসাইটে গত ০১ এপ্রিল প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে আলোচিত ভিডিওতে থাকা ট্রাঙ্কের একই ছবি পাওয়া যায়। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, শেরপুরের শ্রীবরদীতে রাস্তার পাশ থেকে একটি স্টিলের ট্রাঙ্কের ভেতর থেকে অজ্ঞাতনামা এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ১ এপ্রিল দুপুরে স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে তালাবদ্ধ ওই ট্রাঙ্ক থেকে মরদেহটি জব্দ করা হয়।

স্টার নিউজের সেদিনের এক ভিডিও প্রতিবেদনেও একই ফুটেজ ও তথ্য পাওয়া যায়।
জাতীয় দৈনিক ইত্তেফাকের ০৫ এপ্রিল প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) উক্ত নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে। হত্যার শিকার ওই নারীর নাম ডলি আক্তার।
পিবিআই জানায়, একটি টেক্সটাইল মিলে চাকরির সুবাদে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার নিয়ামুর নাহিদ ও তার স্ত্রী রিক্তা মনি গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকেন। গত ৩০ এপ্রিল রাতে স্ত্রী বাড়িতে না থাকার সুযোগে অনৈতিক কাজের জন্য ডলি আক্তারকে টাকার বিনিময়ে নিয়ামুর নাহিদ তার ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। পরে টাকা কম দেয়ায় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে ডলি আক্তার উত্তেজিত হয়ে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করলে ঘাতক নিয়ামুর নাহিদ তাকে মুখ চেপে ধরেন। এরপরও ডলি শান্ত না হলে গামছা দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে ধরলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
অর্থাৎ, ভিডিওটি নারায়ণগঞ্জের নয়, বরং শেরপুরের ভিন্ন ঘটনার।
সুতরাং, নারায়ণগঞ্জে জামায়াত নেতার বাড়ি থেকে প্রতিবেশী যুবতীর লাশ উদ্ধারের দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

