ইতালির প্রধানমন্ত্রী ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে পাত্তা দেননি দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি এআই নির্মিত 

সম্প্রতি “নেতানিয়াহুকে পাত্তা দেননি ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি” শিরোনামে একটি ভিডিও গণ মাধ্যমসহ  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। ভিডিওতে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে হাত না মিলিয়ে বা তাকে এড়িয়ে চলে যেতে দেখা যায়। 

উক্ত দাবির ফেসবুক ভিডিও দেখুন: এখানে এবং এখানে

একই দাবিতে ইউটিউবে প্রচারিত ভিডিও দেখুন: এখানে

অনুরূপ দাবিতে এক্সে প্রচারিত ভিডিও দেখুন: এখানে

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ইতালির প্রধানমন্ত্রী ও নেতানিয়াহুর এই ভিডিওটি আসল নয়। প্রকৃতপক্ষে, এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি এই ভিডিওটিকে বাস্তব দাবিতে গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

আলোচিত ভিডিওটির বিষয়ে অনুসন্ধানে ইতালির সংবাদমাধ্যম কিংবা কোনো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে কোনো তথ্যের সন্ধান পাওয়া যায়নি। স্বাভাবিকভাবে এমন কোনো ঘটলে তা নিয়ে উল্লেখিত গণমাধ্যমগুলো ঢালাওভাবে খবর প্রচার করত।

পরবর্তীতে, আলোচিত ভিডিওটি এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহারে তৈরি কিনা সে বিষয়ে জানতে এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী প্ল্যাটফর্ম ‘Hive Moderation’ এ ভিডিওটি পরীক্ষা করলে দেখা যায়, এটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ৯২.৭ শতাংশ।

এছাড়া, ডিপফেক ও মিটারের বিশ্লেষণেও আলোচিত ভিডিওটি এআই নির্মিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ বলে ফলাফল আসে।

পরবর্তী অনুসন্ধানে আলোচিত ভিডিওর বিষয়ে একাধিক (iVerify Pakistan, Lead Stories) ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবদনগুলোতেও ভিডিওটি এআই টুল ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে বলে দেখানো হয়েছে। এছাড়া, মেলোনির গলার স্কার্ফের লেখা পর্যালোচনা করে দেখানো হয়েছে, পতাকার বাম পাশে থাকা লেখাটি দেখতে কোনো শব্দ বা বাক্যের মতো মনে হলেও, সেগুলো আসলে কেবল কিছু প্রতীক ও অস্পষ্ট রেখা, যা সাধারণত এআই নির্মিত কনটেন্টের সাধারণ বৈশিষ্ট্য।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৯ এপ্রিলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’র ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ইতালির প্রধানমন্ত্রী ইসরায়েলের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্থগিত করেন। গত ৮ এপ্রিল লেবাননে ইতালিয় শান্তিরক্ষা কনভয়ের দিকে ইসরায়েলের গুলি ছোড়ার পর ইতালি ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা যায়। এই প্রেক্ষিতে আলোচিত ভিডিওটি ইতালি ও ইসরায়েলের মধ্যকার নেতিবাচক সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রসঙ্গত, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সর্বশেষ অধিবেশন ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে মেলোনি ও নেতানিয়াহু উভয়েই উপস্থিত ছিলেন। তবে, তাদের মধ্যে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটার খবর পাওয়া যায়নি।

সুতরাং, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পাত্তা দেননি দাবিতে গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওটি এআই নির্মিত।

তথ্যসূত্র

Share: