পশ্চিমা পোশাক পরা ও দাঁড়ি না রাখায় ইসলামপন্থীদের ছাত্রের চুল কেটে দেওয়ার দাবিটি ভুয়া

সম্প্রতি, পশ্চিমা সংস্কৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পোশাক পরা এবং দাঁড়ি না রাখার কারণে বাংলাদেশের ইসলামপন্থীরা ছাত্রদের চুল কেটে দিয়েছে দাবিতে সামাজিক মাধ্যমগুলোতে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কয়েকজন ব্যক্তি জোরপূর্বক একজন যুবকের চুল কেটে দিচ্ছেন।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রচারিত একই দাবির ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

একই দাবিতে ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, পশ্চিমা সংস্কৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পোশাক পরা এবং দাঁড়ি না রাখার কারণে বাংলাদেশে ইসলামপন্থীদের ছাত্রদের চুল কেটে দেওয়ার দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে ফকির শ্রেণীর ব্যক্তিদের জোরপূর্বক চুল কেটে দেওয়ার প্রতিবাদে চুল কেটে প্রতিকী প্রতিবাদ জানানোর ভিডিওকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

আলোচিত দাবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে গণমাধ্যম কিংবা অন্য কোনো সূত্রে পশ্চিমা ধাঁচের পোশাক পরা ও দাঁড়ি না রাখার কারণে দেশে ইসলামপন্থীদের ছাত্রদের চুল কেটে দেওয়ার বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে ভিডিওটির বিষয়ে অনুসন্ধানে বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক Afm Ahkam Ullah Amal-এর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এবং অনলাইন গণমাধ্যম Banglanews24-এর ফেসবুক পেজে গত ২৬ সেপ্টেম্বর একই ভিডিওটি প্রচারিত হতে দেখা যায়।

ভিডিওগুলোর শিরোনাম থেকে জানা যায়, এটি লালন সম্রাজ্ঞী ফরিদা পারভিনের মৃত্যুতে আয়োজি স্মরণসভায় আয়োজকের মাথার চুল কেটে প্রতিবাদ জানানোর ভিডিও।

প্রাপ্ত তথ্যের সূত্র ধরে অনুসন্ধানে মূলধারার গণমাধ্যম প্রথম আলোর ওয়েবসাইটে ২৬ সেপ্টেম্বর একই ঘটনায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, প্রয়াত কিংবদন্তি শিল্পী লালনকন্যাখ্যাত ফরিদা পারভীনের স্মরণে সেদিন ময়মনসিংহে অবস্থিত শিল্পাচার্য জয়নুল উদ্যানে এক স্মরণসভা আয়োজিত হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে ফকির প্রকৃতির ব্যক্তিদের চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় উক্ত অনুষ্ঠানে আয়োজকের চুল কেটে প্রতিকী প্রতিবাদ জানানো হয়। মূলত, ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার হালিম উদ্দিন আকন্দকে জোর করে চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পরা ভিডিওর প্রেক্ষিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়। অনুষ্ঠানে তার ছবি সংবলিত একটি ব্যানারও ছিল বলে প্রতিবেদনটিতে দেখতে পাওয়া যায়।

সুতরাং, পশ্চিমা সংস্কৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পোশাক পরা এবং দাঁড়ি না রাখার কারণে বাংলাদেশের ইসলামপন্থীরা ছাত্রদের চুল কেটে দিয়েছে দাবিতে ভিন্ন ঘটনায় প্রতিকী প্রতিবাদ জানানোর ভিডিও প্রচার করা হয়েছে: যা বিভ্রান্তিকর।

তথ্যসূত্র

Share: