সম্প্রতি, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান মারা গিয়েছেন দাবিতে মূলধারার সংবাদমাধ্যম দৈনিক আমার দেশ, দৈনিক সমকাল এবং দৈনিক কালের কণ্ঠের ডিজাইন সংবলিত মোট ০৩ টি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবির ফেসবুক পোস্ট দেখুন: এখানে, এখানে এবং এখানে।
এছাড়া, দৈনিক আমার দেশের ফটোকার্ড সংবলিত দাবির ইন্সটাগ্রাম পোস্ট দেখুন: এখানে এবং এখানে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, মাহমুদুর রহমান মারা গেছেন দাবিতে আমার দেশ, সমকাল কিংবা কালের কণ্ঠ কোনো ফটোকার্ড কিংবা সংবাদ প্রকাশ করেনি। প্রকৃতপক্ষে, উক্ত গণমাধ্যমগুলোর ডিজাইন নকল করেই আলোচিত ফটোকার্ডগুলো তৈরি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে আলোচিত ফটোকার্ডগুলোতে উল্লেখিত দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক একাধিক কি ওয়ার্ড সার্চ করেও গণমাধ্যম কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে এর সত্যতা পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে আলোচিত ফটোকার্ডগুলো পৃথকভাবে যাচাই করে দেখেছে রিউমর স্ক্যানার।
আমার দেশের ফটোকার্ড যাচাই
“না ফেরার দেশে মাহমুদুর রহমান; এক কিংবদন্তির বিদায়” শিরোনামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এতে দৈনিক আমার দেশ এর লোগো এবং এটি প্রকাশের তারিখ হিসেবে ‘২৫ জানুয়ারি, ২০২৬’ উল্লেখ করা হয়েছে।
উক্ত তথ্য এবং তারিখের সূত্র ধরে আমার দেশের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে উক্ত শিরোনাম সংবলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাছাড়া, গণমাধ্যমটির ওয়েবসাইট কিংবা ইউটিউব চ্যানেলেও উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো সংবাদ বা তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।

প্রকৃতপক্ষে, দৈনিক আমার দেশের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত গণমাধ্যমটির প্রচলিত ফটোকার্ড ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনার মাধ্যমে আলোচিত দাবি সংবলিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
অর্থাৎ, আমার দেশ এমন কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি।
সমকালের ফটোকার্ড যাচাই
“আমার দেশে পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান না ফেরার দেশে” শিরোনামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এতে দৈনিক সমকালের লোগো এবং এটি প্রকাশের তারিখ হিসেবে ‘২৫ জানুয়ারি, ২০২৬’ উল্লেখ রয়েছে।
উক্ত তথ্য এবং তারিখের সূত্র ধরে সমকালের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে উক্ত শিরোনাম সংবলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাছাড়া, গণমাধ্যমটির ওয়েবসাইট কিংবা ইউটিউব চ্যানেলেও উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো সংবাদ বা তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।

প্রকৃতপক্ষে, দৈনিক সমকালের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত গণমাধ্যমটির প্রচলিত ফটোকার্ড ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনার মাধ্যমে আলোচিত দাবি সংবলিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
এছাড়া, উক্ত তারিখে প্রকাশিত সমকালের মূল ফটোকার্ডগুলোতে তারিখের পাশে ‘রোববার’ শীর্ষক লেখা থাকলেও আলোচিত ফটোকার্ডটিতে এর স্থলে ‘রবিবার’ লেখা রয়েছে। পাশাপাশি, সমকালের আসল ফটোকার্ড পর্যালোচনা করে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডের ফন্ট ডিজাইনেরও অমিল খুঁজে পাওয়া যায়।
অর্থাৎ, আলোচিত দাবিতে সমকাল কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি।
কালের কণ্ঠের ফটোকার্ড যাচাই
“হার্ট অ্যাটাকে না ফেরার দেশে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান” শিরোনামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এতে দৈনিক কালের কণ্ঠের লোগো রয়েছে এবং এটি প্রকাশের তারিখ হিসেবে ‘২৫ জানুয়ারি, ২০২৬’ উল্লেখ করা হয়েছে।
উক্ত তথ্য এবং তারিখের সূত্র ধরে কালের কণ্ঠের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে উক্ত শিরোনাম সংবলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাছাড়া, গণমাধ্যমটির ওয়েবসাইট কিংবা ইউটিউব চ্যানেলেও উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো সংবাদ বা তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।
পাশাপাশি, উক্ত তারিখে কালের কণ্ঠের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ফটোকার্ডগুলো পর্যালোচনা করে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডের ছবি ও ফন্ট ডিজাইনের সাথে প্রচলিত ফটোকার্ডের অমিল খুঁজে পাওয়া যায়।

অর্থাৎ, কালের কণ্ঠ এমন কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি।
স্বাভাবিকভাবে, আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান মারা গেলে সে বিষয়ে দেশিয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে ঢালাওভাবে খবর প্রচার হতো। তবে এক্ষেত্রে, আলোচিত দাবি সমর্থিত কোনো তথ্য অন্য কোনো গণমাধ্যমেও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে, মাহমুদুর রহমানের বিষয়ে আরো অনুসন্ধানে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার অনলাইন পোর্টাল বিএসএস নিউজের ওয়েবসাইটে গত ২৩ জানুয়ারিতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটির বিস্তারিত অংশ থেকে জানা যায়, শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যা ষড়যন্ত্রের মামলার সাজার বিরুদ্ধে সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের আপিলের শুনানিকালে আদালতে হাজির ছিলেন মাহমুদুর রহমান। শুনানি শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদের উত্থানের পক্ষে বিচার বিভাগের ভুমিকা রয়েছে। এটা বার বার প্রমাণিত হয়েছে। ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। নতুন বিচারপতি জনগণের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রত্যাশা পূরণে সফল হয়েছেন। মানুষ এখন ন্যায়বিচার পাচ্ছেন।”
সুতরাং, আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান মারা গেছেন দাবিতে আমার দেশ, সমকাল কিংবা কালের কণ্ঠের নামে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো ভুয়া ও বানোয়াট।
তথ্যসূত্র
- Amar Desh- Facebook Page
- Amar Desh- Website
- Amar Desh- Youtube Channel
- Samakal- Facebook Page
- Samakal- Website
- Samakal- Youtube Channel
- Kaler Kantho- Facebook Page
- Kaler Kantho- Website
- Kaler Kantho- Youtube Channel
- BSS News- আদালতের কাছে ন্যায় বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা মাহমুদুর রহমানের


