বিজেপি জয়ের পর উচ্ছেদ দাবি—ভিডিওটি ভিন্ন ঘটনার 

পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ফলপ্রকাশের পর একাধিক জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে রাজনৈতিক সহিংসতা। দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে শুরু করে বীরভূম, নদিয়া, হাওড়া, বাঁকুড়া রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে খুন, হামলা, ভাঙচুর এবং দলীয় কার্যালয় দখলের অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি। এরই প্রেক্ষিতে নির্বাচনে জয়ের পরে বিজেপি সমর্থকরা ভারতের মুসলমানদের বাড়িঘরে হামলা ও মসজিদে ভাঙচুর চালিয়েছে দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। 

উক্ত দাবির ফেসবুক ভিডিও দেখুন: এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে

একই দাবিতে ইন্সটাগ্রামে প্রচারিত ভিডিও দেখুন: এখানে এবং এখানে

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি ভারতে নির্বাচনে জয়ের পরে বিজেপি সমর্থক কর্তৃক মুসলমানদের বাড়িঘর ও মসজিদ ভাঙচুরের নয়। প্রকৃতপক্ষে, ২০২৫ সালে ভারতের আসাম প্রদেশে সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা কথিত অবৈধ বসতি উচ্ছেদে পুলিশ ও প্রশাসনের যৌথ অভিযানের সময়ে ধারণ করা একটি ভিডিওকে সম্প্রতি উক্ত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘Pragnya IAS Academy’ নামক ইন্সটাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বরে প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়, যার সঙ্গে আলোচিত দাবি সংবলিত ভিডিওর দৃশ্যের মিল রয়েছে।

ভিডিওটির ক্যাপশনে দাবি করা হয়েছে, এটি ভারতের আসামে সীমান্তবর্তী এলাকায় কথিত অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর দৃশ্য। ওই সময়ে আসামের সীমান্ত সুরক্ষা, জনসংখ্যাগত ভারসাম্য ও জাতীয় পরিচয় রক্ষার অংশ হিসেবে পুলিশ ও প্রশাসনের উদ্যোগে যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়।

পাশাপাশি ‘South Asian Digest’ নামক আরেকটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বরে একই ঘটনার ভিডিও প্রচার করা হয়। উক্ত ভিডিওর ক্যাপশন থেকেও একই তথ্যের উল্লেখ পাওয়া যায়।

অর্থাৎ, প্রচারিত ভিডিওটি সম্প্রতি নির্বাচনে জয়ের পরে বিজেপি সমর্থক কর্তৃক মুসলমানদের বাড়িঘর ও মসজিদে ভাঙচুরের ঘটনার নয় তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে।

সুতরাং, নির্বাচনে জয়ের পরে বিজেপি সমর্থকরা ভারতের মুসলমানদের বাড়িঘরে হামলা ও মসজিদে ভাঙচুর চালিয়েছে দাবিতে পুরোনো ও ভিন্ন ঘটনার ভিডিও প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: