সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি প্রচার করা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়া নোবেল বিজয় ডক্টর ইউনুস কে রাষ্ট্রপতি হিসাবে ঘোষণা করেছে তারেক জিয়া যোগ্য ব্যক্তিকে যোগ্য স্থান দিয়েছে এত সুন্দর সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তারেক জিয়াকে অসংখ্য ধন্যবাদ’। (বানান অপরিবর্তিত)

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ হওয়া অবধি আলোচিত দাবিতে প্রচারিত উপরোল্লিখিত পোস্টটিতে এককভাবে প্রায় ২০ হাজারটি পৃথক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে এবং ৩ হাজারেরও অধিক বার শেয়ার করা হয়েছে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ড. ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা করেননি। প্রকৃতপক্ষে কোনোরকম নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই আলোচিত দাবি প্রচার করা হয়েছে। তাছাড়া, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ‘ঘোষিত’ হন না, বরং সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হন।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত পোস্ট পর্যবেক্ষণ করলে তাতে আলোচিত দাবির সপক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণের উল্লেখ পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি, প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করলে মূলধারার গণমাধ্যম বা নির্ভরযোগ্য সূত্রে আলোচিত দাবির সপক্ষে কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রকৃতপক্ষে, তারেক রহমান এরূপ কোনো ঘোষণা দিলে তা মূলধারার সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হতো।
অনুসন্ধানে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা’র ওয়েবসাইটে আলোচিত দাবি প্রচার পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বলে জানা যায়।
এছাড়া, এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যম ‘বিবিসি বাংলা’র ওয়েবসাইট গত ১৮ ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দায়িত্ব আসেন। তার মেয়াদ রয়েছে ২০২৮ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত। ফলে ওই পদে থাকা অবস্থায় নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার আইনগত সুযোগ নেই। যে কারণে তিনি যদি পদত্যাগ না করেন কিংবা তাকে অভিশংসন না করা পর্যন্ত নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে কেউ শপথ নিতে পারবেন না বলে জানাচ্ছেন সংবিধান বিশ্লেষকরা। তবে, স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতি যদি পদত্যাগপত্র জমা দেন তাহলে অভিশংসনের প্রয়োজন হবে না।
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ‘সংবিধান বিশ্লেষক জাহেদ ইকবাল বিবিসি বাংলাকে বলেন, “শারীরিক অসুস্থতা, মানসিক কারণ কিংবা গুরুতর কোনও অসদাচরণজনিত কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হতে পারে”। মেয়াদ শেষ, পদত্যাগ কিংবা অভিশংসন জনিত কারণে রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হলে এই (রাষ্ট্রপতি) নির্বাচনের আয়োজন করে থাকে নির্বাচন কমিশন। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্যের ভোটেই নির্বাচিত হন রাষ্ট্রপতি। এক্ষেত্রে কারও বয়স ৩৫ বছরের কম ও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য না হলে কেউ রাষ্ট্রপতি হতে পারবেন না।’
অর্থাৎ, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বেশকিছু নিয়মনীতির মধ্য দিয়ে যেতে হয় যার কোনোটিই এখন পর্যন্ত ঘটার সপক্ষে কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। এবং, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ‘ঘোষিত’ হন না, বরং সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হন।
সুতরাং, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ড. ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা করেছেন শীর্ষক দাবিটি মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Bangladesh Sangbad Sangstha – ভাষা শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন
- BBC News Bangla – বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কবে আর কীভাবে হবে?
- Rumor Scanner’s analysis


