হাদি হত্যায় সন্দেহে সাদিক কায়েমের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির দাবিটি ভুয়া

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি প্রচার করা হয়েছে, ‘ব্রেকিং নিউজ| হাদি হত্যায় সন্দেহের তালিকায় সাদিক কায়িম সহ সবাইকে দেশ ত্যাগের নিষেধাজ্ঞা’।

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, হাদি হত্যায় সন্দেহে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে কোনোরকম নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই আলোচিত দাবি প্রচার করে হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত পোস্ট পর্যবেক্ষণ করে দাবির সপক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণের উল্লেখ পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি গুগলে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করলেও আলোচিত দাবির সপক্ষে মূলধারার গণমাধ্যম বা নির্ভরযোগ্য সূত্রে কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রকৃতপক্ষে এরূপ কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলে তা গণমাধ্যমে প্রচার করা হতো।

অনুসন্ধানে হাদি ও সাদিক কায়েমের বিষয়ে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করলে নানা সময়ে হাদি হত্যার হামলার নির্দেশদাতা ও জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি সাদিক কায়েমকে জানাতে দেখা যায়। এমনকি সম্প্রতি হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও মূল শ্যুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ভারতে গ্রেফতার হলে গত ৯ মার্চ সাদিক কায়েমকে এ বিষয়ে একটি পোস্ট করতে দেখা যায় যাতে ফয়সাল করিমের গ্রেফতার হওয়ার ঘটনাকে তিনি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার যাত্রায় একটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন এবং অনতিবিলম্বে খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় সোপর্দ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান। পাশাপাশি, তিনি পোস্টে আরো জানান তিনি ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে বর্তমানে মক্কায় অবস্থান করছেন।

হাদি হত্যার ঘটনায় বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে অনুসন্ধানে গত ডিসেম্বরে মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের দেশত্যাগে আদালতের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিষয়ে জানা যায়। এছাড়াও, এ বিষয়ে আর কারোর বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারির বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও মূল শ্যুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল সম্প্রতি ভারতে গ্রেফতার হয়েছেন। বাংলাদেশের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) রিউমর স্ক্যানারকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সুতরাং, হাদি হত্যায় সন্দেহে সাদিক কায়েমের দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

Share: