চলমান বন্যায় চট্টগ্রামে ডেলিভারির রোগীকে নিয়ে কয়েকজন যুবক একটি সিএনজি কাঁধে করে পার করছেন দাবিতে সম্প্রতি একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়েছে।
উক্ত দাবিতে গণমাধ্যমে প্রচারিত পোস্ট দেখুন- বৈশাখী টিভি, সোনালী নিউজ।
উক্ত দাবিতে বৈশাখী টিভির প্রচারিত প্রতিবেদন দেখুন এখানে।
ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
ইউটিউবে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
একই ভিডিও আওয়ামী লীগের অ্যাক্টিভিস্ট কাজী মামুনকেও পোস্ট করতে দেখা যায়।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি চট্টগ্রাম বিভাগের হলেও চট্টগ্রাম জেলার নয় এবং সিএনজিতে কোনো গর্ভবতী নারী কিংবা কোনো যাত্রী ছিলেন না। প্রকৃতপক্ষে, প্রচারিত ভিডিওটি বান্দরবানের এবং সিএনজিটি ছিল একেবারে খালি।
অনুসন্ধানের শুরুতে বান্দরবানের স্থানীয় সাংবাদিক সুফল চাকমার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রচারিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওতে থাকা সিএনজি এবং ব্যক্তিদের সাথে আলোচিত ভিডিওতে থাকা সিএনজি ও মানুষের মিল রয়েছে। ভিডিওটি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে সিএনজির ভেতরে কোনো যাত্রীর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বরং, সিএনজিটি খালি থাকতে দেখা যায়।

পোস্টে বলা হয়েছে, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের কাগজিখোলা-খুঁটাখালী ছড়ায় সেতু না থাকায় স্থানীয়দের কাঁধে করে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা পারাপারের ভিডিও এটি।
পরবর্তীতে ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে একাধিক স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও জনপ্রতিনিধির সাথে যোগাযোগ করে রিউমর স্ক্যানার।
বান্দরবান জেলার ‘প্রতিদিনের বাংলাদেশ’ এর প্রতিনিধি সুফল চাকমা বলেন, ভিডিওটি বান্দরবানের এবং গাড়িতে কোনো যাত্রী বা ডেলিভারির রোগী ছিল না। একেবারে খালি ছিল।
বান্দরবান জেলার প্রথম আলোর ফটোগ্রাফার মং হাই সিং মারমা বলেন, সিএনজিতে যাত্রী বা ডেলিভারির রোগী থাকার তথ্য আমরা পাইনি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বলছেন সিএনজি খালি ছিল।
পরবর্তীতে বাইশারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলম বলেন, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম এটি গুজব। সিএনজিতে কোনো যাত্রী ছিল না।
অর্থাৎ, ভিডিওটি চট্টগ্রাম জেলার নয় বরং, বান্দরবানের। এছাড়া, সিএনজিটিও খালি ছিল।
উল্লেখ্য, গত ০৯ জুলাই সকাল ছয়টার দিকে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পশ্চিম আমিরাবাদ ইউনিয়নের খৈয়ারকুল গ্রামে প্রসব বেদনায় কাতরাচ্ছিলেন পানিবন্দী এক নারী। পরবর্তীতে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়েছিলেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
সুতরাং, বান্দরবারে খালি সিএনজি পারাপারের ভিডিও প্রচার করে দাবি করা হচ্ছে চট্টগ্রামে গর্ভবতী নারী সহ সিএনজি পারাপারের দৃশ্য; যা বিভ্রান্তিকর।
তথ্যসূত্র
- Shufal Chakma- Facebook Post
- Local Journalist’s Statement
- UP Chairman- Statement
- Prothom Alo- প্রসব বেদনায় কাতরাচ্ছিলেন পানিবন্দী নারী, উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা


